শাহজাদপুর সংবাদ

সিরাজগঞ্জে পরিকল্পনাহীন ৬৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প

২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ৬:৪৭ PM

সিরাজগঞ্জে পরিকল্পনাহীন ৬৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প

টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁধ ও বালুভরাট প্রকল্প। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। তবে কাজ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিশাল এই ভূমিতে এখনো বাস্তবায়িত হয়নি কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। ফলে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা প্রকল্প এলাকায় গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা।

শুরুতে অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) এবং সর্বশেষ প্রায় ১ হাজার ১০০ একর জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও কোনোটিই এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বড় বাবু আকবর হোসেন জানান, এখানে কিছু করার পরিকল্পনা এখন আমার কাছে জানা নেই। শুরুতে অর্থনৈতিক অঞ্চল, এরপর ইপিজেড প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি, গাছপালা, ঘরবাড়ি বাবদ প্রায় ১১শ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এখন তার অগ্রগতি কী জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনো তথ্য নেই।

তথ্য বলছে, ২০২২ সালে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাটের কাজ শেষ করা হলেও জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় ৬শ ৩৮ কোটি টাকার প্রকল্পে অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে। আর কয়েক মাস ধরেই এই বসতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা যায়, বসতি গড়তে অপরিহার্য বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে নেসকো। ফলে দখল হয়ে যাচ্ছে সদ্য প্রস্তাবিত ইপিজেডের জায়গা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ৫শ ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হয়। কয়েক দফা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৬শ ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে কাজটি শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটি সরকারের সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয়।

দখল বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং বাঁধ নির্মাণ করি। এখানে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। আমরা প্রকল্পটি জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিছুদিন আগে গিয়ে দেখি প্রকল্প এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত রবিবার (২৩ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানা যায়, গত ছয় মাস আগে জেলা প্রশাসক হলরুমে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) নিয়ে রেজুলেশন হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু জেলায় সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন আছে, তাই এখানে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) গড়ে তোলা হবে। এজন্য প্ল্যানিং কমিশনে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরও জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কার্যবিবরণী প্রণয়ন করা হয়। এর পরবর্তীতে ঢাকাস্থ ইপিজেড কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সিরাজগঞ্জে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বলে তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

এর আগে সিরাজগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ ক্রসবার-৩ ও ক্রসবার-৪-এ এই ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) গড়ে তোলা হবে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও প্ল্যানিং কমিশনে একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, ক্রসবার-৩ ও ক্রসবার-৪-এ এই এলাকায় কয়েকটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন কোনো অগ্রগতি নেই।

উল্লেখ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সিরাজগঞ্জ শহর ও যমুনা সেতু রক্ষায় জেলায় যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙন থেকে নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষায় ক্রসবার-৩ এবং ক্রসবার-৪-এর মধ্যবর্তী প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং যমুনা সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধ রক্ষা করা।

এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিরাজগঞ্জ লঞ্চঘাট এবং শহরের বিয়ারা ঘাট, ঘোনাপাড়া ও সয়দাবাদ এলাকার কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করা। নদীর গভীরতম স্রোতধারা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা। নদীভাঙন রক্ষার মাধ্যমে অত্র এলাকার জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। নদীতীর রক্ষার মাধ্যমে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখা। পুনরুদ্ধারকৃত জমি ড্রেজিংকৃত মাটির মাধ্যমে ভরাট করা হয়।

সূত্র: NPB News

সম্পর্কিত সংবাদ