শাহজাদপুর সংবাদ

সিরাজগঞ্জের মাঠজুড়ে পেঁপের সমারোহ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০৪ PM

সিরাজগঞ্জের মাঠজুড়ে পেঁপের সমারোহ

সিরাজগঞ্জের মাঠজুড়ে এখন পেঁপের সমারোহ। সবুজ গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় পেঁপে। কোনো গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি, আবার কোথাও তারও বেশি ফলন। ভালো ফলন আর বাজারে চাহিদা থাকায় পেঁপে চাষে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের।

জেলার সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল এবং উঁচু জমিতে এবার ব্যাপকভাবে পেঁপে চাষ হয়েছে। হাইব্রিড ও শাহি জাতের পেঁপে চাষে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব পেঁপে এখন যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁপে চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই আবাদি জমির একটি অংশ পেঁপের জন্য বরাদ্দ করেছেন। এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আগে তিনি ধান ও ভুট্টা চাষ করতেন। লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে পেঁপে চাষ করছেন। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিটি গাছে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারেও ভালো দাম মিলছে।

কামারখন্দের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে পেঁপে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ ও সময়, দুটিই বেঁচে যাচ্ছে।

শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই সিরাজগঞ্জের পেঁপে। জেলার উৎপাদিত পেঁপে যাচ্ছে টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা পেঁপে সংগ্রহ করায় কৃষকদেরও বাজারজাত নিয়ে তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।

পাইকারি ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জের পেঁপের আকার ভালো এবং মানও ভালো। এ কারণে কৃষকের ক্ষেত থেকেই পেঁপে সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে তা বিভিন্ন জেলার বাজারে পাঠানো হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে প্রায় ২০৫ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এবার জেলায় প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহ-সব মিলিয়ে এবার পেঁপের ফলন ভালো হয়েছে। ধাননির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্যিক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, সিরাজগঞ্জে পেঁপে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। কৃষকেরা বিকল্প ফসল হিসেবে পেঁপে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এবার প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, পেঁপে চাষে বাজার ভালো থাকায় আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়াতে চান তারা। তবে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সংরক্ষণ ও বাজারজাত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে পেঁপে চাষ আরও লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল হাই মুন্সী বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে পেঁপে চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব। এটি এখন অনেক কৃষকের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠছে।

কাঁচা ও পাকা-দুই অবস্থাতেই পেঁপের চাহিদা থাকায় সারা বছরই এ ফলের বাজার রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জে পেঁপের আবাদ শুধু কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন, বাজারজাত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জের পেঁপে দেশের বড় বাজারগুলোতে আরও বিস্তৃতভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সূত্র: Daily Times Of Bangladesh

সম্পর্কিত সংবাদ