শাহজাদপুর সংবাদ

শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়ের বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:২৮ AM

শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়ের বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মাসুম হোসেন , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাহজাদপুর […]

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।

মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।

মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।

মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।

মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, আদালতে কারণ দর্শাতেও অনুপস্থিত বাদী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।

মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে সিএনজি অটোরিকশা থেকে তিন বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আলাউদ্দিন মোল্লা নামে এক ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে…

মাসুম হোসেন , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সিএনজিচালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে বগুড়া - নগর বাড়ি মহাসড়কের…

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাসচাপায় অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান (৫২) নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।…

মাসুম হোসেন , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বড়াল নদীতে ডুবে সজীব সরকার (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে নৌকা যোগে নদী পার হওয়ার সময় এ ঘটনা…

সূত্র: https://www.dainiksokal.com/

সম্পর্কিত সংবাদ