শাহজাদপুর সংবাদ

রহস্য উদঘাটন, গাড়ি থেকে ৯ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় যুক্ত কৃষকদলের নেতা

৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৫:৫০ PM

রহস্য উদঘাটন, গাড়ি থেকে ৯ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় যুক্ত কৃষকদলের নেতা

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর পিকআপে সংঘঠিত ছিনতাইয়ের মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উৎঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কৃষকদলের নেতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি ও থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ৯ লাখ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় পুলিশ সুপার কার্য়ালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৮টার দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আটকরা হলেন- উপজেলার ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে বর্তমানে উপজেলা সদরের বাগানবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবিন (২৫)। এই রবিন উপজেলা কৃষকদলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। আরেক কৃষকদল নেতা রামচরনপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪)। এর আগে মুন্নার বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলাসহ আরও দুটি মামলা রয়েছে। আর মূল পরিকল্পনাকারী ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও পিকআপ চালক সোহেল রানা (২৫)।

থানা পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বারি মন্ডলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৪) মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি গোডাউনের পাশে নাসির মাস্টারের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ভাঙারি ব্যবসা করে আসছেন। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী আব্দুল আলিমের দোকানের ম্যানেজার ও চাচাতো ভাই মজনু মিয়া (৩৫) এবং পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫) বগুড়া থেকে ভাঙারি বিক্রি করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে আসছিলেন।

পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে এলে হঠাৎ পিকআপটি বিকল (নষ্ট) হয়। এ সময় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে ড্রাইভার সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকারে পথচারীরা এসে তাদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মজনুকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসা মাত্রই তিনি ঘটনা উদঘাটনের নির্দেশ দেন।

সংবাদ পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এবং এসপির তত্ত্বাবধানে ওই রাতেই মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে যৌথ টিম রাতভর অভিযান শুরু করে। পরে প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যে আসামি শনাক্তের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের রহস্য উৎঘাটন করে। এরপর প্রথমে মুন্নাকে তার গ্রামের বাড়ি রামচন্দ্রপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে ছিনতাই করা ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

গ্রেফতার মুন্নার দেওয়া তথ্যমতে অপর আসামি রবিনকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রবিনের বাড়ি থেকে ছিনতাই করা তিন লাখ ৯৩ হাজার টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যাবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পরে তাদের দুই জনের দেওয়া তথ্য মতে, চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ছিনতাই ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ড্রাইভার সোহেল ও মুন্না। ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকায় ছিল রবিন। তারা তিন জনই গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনও ধরনের অপরাধ বিশেষ করে ছিনতাই এবং ডাকাতি আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ