শাহজাদপুর সংবাদ

কামারখন্দের আতিয়াকে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:২৬ PM

কামারখন্দের আতিয়াকে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস

বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনমতে সংসার চালান। বিয়ের উপযুক্ত মেয়ের টাকার অভাবে পরপর দুইবার বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের কথা।

আতিয়ার পরপর দুইবার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাসের।

ঘটনার বিষয়টি জানার পর তিনি বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হয়ে আতিয়াকে নিয়ে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মামুন বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে আসে তিন লাখ টাকা।

সেই টাকায় মহা ধুমধামে শুক্রবার (২৫ শে সেপ্টেম্বর) আতিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ কান্দাপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন আকন্দের ছেলে সজীব হোসেন আকন্দ।

আতিয়ার মা সামিদা খাতুন জানান, এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং স্বামী-স্ত্রী মিলে আমাদের চারজনের পরিবার। ওদের বাবা কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছে অনেক দিন আগে। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনমতে সংসার চালাই। টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিলাম না। মামুন বিশ্বাস আমাদের পাশে না দাঁড়ালে মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম না।

কনে আতিয়া জানান, এর আগে দুইবার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে বিয়ে হয়নি। এবারও বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি ও আমার মা-বাবা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ মামুন বিশ্বাস ভাই এসে আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। কোনোদিনও ভাবিনি আমার মতো একটা অসহায় মেয়ের এত রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে হবে। মামুন বিশ্বাস ভাইয়ের প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।

মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস জানান, আতিয়ার বিয়ের মাত্র একদিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দেই। দেশ-বিদেশের মানবিক ভাই-বোনদের সহযোগিতায় মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। সেই টাকা দিয়ে রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। সব খরচ বাদে নগদ ৭০ হাজার টাকা আতিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই কৃতিত্ব আমার নয়, দেশ-বিদেশ থেকে যারা সহযোগিতা করেছেন কৃতিত্ব তাদের। আমি শুধু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সূত্র: সিরাজগঞ্জের কাগজ

সম্পর্কিত সংবাদ