শাহজাদপুর সংবাদ

লোডশেডিংয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্পে ধস, কাঁচামালেও চড়া দাম

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:৩৯ AM

লোডশেডিংয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্পে ধস, কাঁচামালেও চড়া দাম

ঘন ঘন লোডশেডিং, সুতা ও রঙের অতিরিক্ত দাম এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে স্থবির হয়ে পড়েছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। লোকসানের মুখ দেখে বন্ধ হয়ে গেছে বহু বিদ্যুৎচালিত তাঁত (পাওয়ারলুম) ও চিত্তরঞ্জন (সেমি অটোমেটিক) তাঁত। এতে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র তাঁতি ও শ্রমিক।

বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেন্টারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা। দুই জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এ অঞ্চলে উৎপাদিত শাড়ি ও লুঙ্গি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিদ্যুৎসংকটের কারণে উৎপাদনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় ও বাজারে উৎপাদিত পণ্যের কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় মালিকরা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় তাঁতী সমিতিগুলোর তথ্যমতে, দুই জেলায় মোট সাড়ে চার লাখ তাঁতের মধ্যে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ তাঁত (৫০-৬০ শতাংশ) পুরোপুরি বন্ধ বা আংশিক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম বোর্ড ও স্থানীয় তাঁতী সমিতি সূত্রে জানা যায়, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের প্রায় ৫০ হাজার ছোট-বড় কারখানার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে অন্তত ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। এর মধ্যে সুতা প্রসেসিং, রং করা, শুকানো, নলি ভরা ও কাপড় বোনার মতো কাজে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ শ্রমিক। তবে চলমান সংকটে ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি (প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার) কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোও লোডশেডিংয়ের কারণে দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাজের সুযোগ হারিয়ে বর্তমানে জেলা দুটির প্রায় পৌনে দুই থেকে দুই লাখ তাঁতশ্রমিক সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে রিকশা-ভ্যান চালানো কিংবা দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ভিড়ছেন।

পাবনার কুলুনিয়া গ্রামের তাঁতমালিক সৈয়দ আলী ও দোগাছী গ্রামের আবু জাফর জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালানো ছাড়া উপায় থাকে না। তবে বাজারে ডিজেলের সংকট ও চড়া দামের কারণে প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে কাপড় তৈরির উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

একই গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারি ও ডায়িং মিলের মালিক দবির উদ্দিন বলেন, সুতা, রং, সোডা এসিডসহ সব উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। ৫০ কাউন্টের এক বেল সুতা এক বছর আগের ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০০ টাকায়। কাঁচামালের দামের বিপরীতে পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উৎপাদন কমে যাওয়ার চরম ধাক্কা লেগেছে শ্রমিকের মজুরিতে। সাঁথিয়ার তাঁতশ্রমিক আবুল হোসেন, রহম আলী ও মগরেব আলী জানান, আগে যেখানে দিনে তিন থেকে চারটি লুঙ্গির থান বোনা যেত, বিদ্যুৎ না থাকায় এখন সারা দিনে দুইটি থান তৈরি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আগে যেখানে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হতো, তা এখন নেমে এসেছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়।

শাহজাদপুর হাটের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়া এবং আর্থিক মন্দার প্রভাবে বেচাকেনায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রংপুর, ঢাকা বা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আগে প্রতি হাটে চার থেকে আট ট্রাক কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন, তারা এখন মাত্র এক থেকে দুই ট্রাক কাপড় কিনছেন।

পাবনা ও সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও আতাইকুলা হাটে সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। দেশের নানা প্রান্তের পাশাপাশি ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে শাড়ি-লুঙ্গি কিনতেন। স্থানীয় ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে কাপড় বিক্রি, রপ্তানি ও ব্যাংক লেনদেন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

বেড়া উপজেলা তাঁতী সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর এবং হ্যান্ডলুম অ্যান্ড পাওয়ারলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, তাঁতীদের একদিকে বিদ্যুতের বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চড়া দামে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা না দিলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও উদ্ভূত সংকটের বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর মহাব্যবস্থাপক আহমেদ শাহ আল জাবের জানান, তাঁতশিল্প অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ চাহিদা ৭৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সর্বোচ্চ পাওয়া যাচ্ছে ৬১ মেগাওয়াট। প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অসুবিধার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সারাদেশে রেশনিং করে লোড ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

বাড়িতে বিষধর সাপের উপদ্রব থেকে মুক্তির আশায় মানত করে ‘পদ্মা পুরাণ’ গানের আসর বসিয়েছিল একটি পরিবার। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে ফেসবুক লাইভে এসে শিল্পীদের পোশাক, সাজসজ্জা ও পরিবেশনা নিয়ে আপত্তি তুলে বাধা দেন স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে মৌলিক ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

নাটোরের সিংড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে ৬০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিংড়া বাজারের চালপট্টিতে বিপ্লব নামের এক ব্যবসায়ীর গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়।

সাভারে মাদ্রাসাছাত্র বলাৎকারের মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সূত্র: Bangla Stream

সম্পর্কিত সংবাদ