শাহজাদপুর সংবাদ

নতুন ঋতুপর্ণাদের খোঁজে ৩৬ নারী একাডেমি নিয়ে শুরু হচ্ছে ফুটবল-উৎসব

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৪৭ PM

নতুন ঋতুপর্ণাদের খোঁজে ৩৬ নারী একাডেমি নিয়ে শুরু হচ্ছে ফুটবল-উৎসব

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট’। প্রথম আলোর উদ্যোগে, স্টার নিউজের পৃষ্ঠপোষণায় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহযোগিতায় এই আয়োজনে বাফুফের ওয়ান স্টার-ভুক্ত ৩৬টি একাডেমি ৬টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে খেলবে। ২৬ সেপ্টেম্বর রংপুর অঞ্চলের খেলা দিয়ে পর্দা উঠবে দেশব্যাপী এই ফুটবল উৎসবের।

আজ ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ও ড্র অনুষ্ঠান হয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন নারী ফুটবল একাডেমির প্রতিনিধি, দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার এবং ক্রীড়া সংগঠকেরা এতে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্রর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানমঞ্চে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন একাডেমি থেকে উঠে এসে বর্তমানে বয়সভিত্তিক জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়ানো দুই নারী ফুটবলার—বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক মেঘলা রানী রায় ও সহ-অধিনায়ক আলপি আক্তার।

অনুষ্ঠানে আয়োজক ও অতিথিরা এই উদ্যোগকে দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় ঐতিহাসিক এক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্টার নিউজের সিইও মোখছেদুল কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপনীত হয়েছি আমরা। এটি শুধু সংবাদ সম্মেলন বা টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান নয়, সত্যিকার অর্থে এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন এক মঞ্চ।’

বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম ফুটবলের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর কথা জানিয়ে বলেন, ‘ফুটবলের যেকোনো উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রথম আলো-স্টার নিউজের এই উদ্যোগ ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ। এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ দেশের নারী ফুটবলের পাইপলাইনে সাহায্য করবে।’ পরে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেলে বাফুফে তাদের জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ দেবে।

অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত দুই তরুণ তারকা মেঘলা ও আলপির ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে মেঘলা উঠে এসেছেন স্থানীয় জনগাঁও নারী ফুটবল একাডেমি থেকে। ২০২৪ সালে বাফুফে ভবনে আবাসিক ক্যাম্পে সুযোগ পান। গত বছর ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ১০ ও ১৩ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মাটিতে তাদেরই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন এই গোলরক্ষক।

অন্যদিকে ঢাকায় গত নারী লিগে রাজশাহী স্টারসের হয়ে খেলা স্ট্রাইকার আলপি চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭ গোল) ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জোড়া পুরস্কার জেতেন। গত নারী লিগে চ্যাম্পিয়ন দল রাজশাহী স্টারসের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৯টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশের সিনিয়র দলে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মেঘলা বলেন, ‘আমি নিজেও একাডেমিতে খেলে উঠে এসেছি। চাইব এই টুর্নামেন্ট থেকে ভালো ভালো খেলোয়াড় এবং আমাদের চেয়েও ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে।’ আলপি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখন এমন টুর্নামেন্ট ছিল না। তখন ভাবতাম, কীভাবে নিজের পারফরম্যান্স তুলে ধরব। অনেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে পারে না, তাদের জন্য এই টুর্নামেন্ট ভালো উদ্যোগ।’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদ বলেন,‘প্রথম আলো মানে ভিন্ন কিছু। আমার বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্ট আলোড়ন ফেলবে।’ টুর্নামেন্টের ঢাকা অঞ্চল ও চূড়ান্ত পর্বের ভেন্যু সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবিরের আশা, ‘এই টুর্নামেন্ট নারী ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে একটা মঞ্চ তৈরি করবে।’

টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক কামরুন নাহার ডানা ২০০৩ সালে নারী ফুটবলের শুরুর দিকের কঠিন ও সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। সেই কঠিন শুরুর ২৩ বছর পরের পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল দুবার দক্ষিণ এশিয়ায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। ডানা বলেন, ‘আমরা চাইব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যেন এখান থেকে প্রতিভাবানদের জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ করে দেয়।’

সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় অংশে ড্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাবেক ফিফা রেফারি ও বাফুফের হেড অব রেফারিজ আজাদ রহমান। লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন অঞ্চলের কোন দল কার বিপক্ষে খেলবে। ড্রয়ের টোকেন তোলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ডালিয়া আক্তার, জাতীয় নারী দলের সাবেক খেলোয়াড় খুরশিদা খাতুন, বাফুফের নারী ম্যাচ কমিশনার নাহিদা আক্তার, বাফুফের নারী ফুটবল কোচ মাহমুদা আক্তার, নারী ফুটবল সংগঠক নাসরিন আক্তার এবং কামরুন নাহার ডানা। এ ছাড়া ড্রয়ে অংশ নেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক দুই অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান এমিলি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের সাফজয়ী নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, বাফুফের একাডেমি সমন্বয়ক মাহবুবুল আলম, নাবিল গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং মো. আক্তারুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ