দেলদুয়ারের খেলার মাঠের নাম ‘বাংলাদেশ’
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০০ PM

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে কোনো খেলার মাঠ ছিল না। ধান কাটা হয়ে গেলে শিশুরা খেলতো, আবার আবাদ শুরু হলে বন্ধ হতো খেলা। খেলাধূলা করতে না পেরে শিশু, কিশোর, তরুণরা খুব বেশি মোবাইল ও স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছিল। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিসর রুগ্ন হয়ে পড়েছিল। অভিভাবক, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা এই নিদারুণ সংকটকে আমলে নিলেন। তারা পরিকল্পনা করলেন। গ্রামের প্রতি পরিবার থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হলো। গ্রামের মানুষ সবাই মিলে গ্রামের জন্য একটি ৬০ শতক জায়গার খেলার মাঠ কিনলেন। গ্রামজুড়ে বিজয়ের আনন্দ বইলো। নতুন খেলার মাঠটিতে জাতীয় পতাকা টানানো হলো। ঐক্যবদ্ধ দায়িত্ব ও শ্রমে কেনা এই খেলার মাঠটি মুহূর্তেই যেন এক অবিরল ‘বাংলাদেশের’ প্রতীক হয়ে ওঠে। একটি খেলার মাঠের অনুপস্থিতির গুরুত্ব ও সংকট বুঝতে পারার মতো দায়িত্বশীল বাবুপুরের গ্রামবাসীরাই বাংলাদেশ।
নিজেদের প্রয়োজন ও সংকট নিজেরা মিলে মোকাবিলা করবার এই যৌথ প্রয়াসের নামই বাংলাদেশ। নিষ্ঠুরভাবে খেলার মাঠ ও জনপরিসর লুটে নেওয়া চলমান নিওলিবারেল ব্যবস্থাকে একটা কষে থাপ্পর দিলো দেলদুয়ারের খেলার মাঠ। যখন প্রতিদিন বাংলাদেশের শিশুরা শহর কী গ্রামে এক টুকরো খেলার মাঠের জন্য অস্থির হয়ে আছে, খেলার মাঠ বাঁচাতে যখন দেশজুড়ে জানবাজি রাখা আন্দোলনে নামতে হচ্ছে— তখন দেলদুয়ারের খেলার মাঠের বার্তা আমাদের অধিপতি সর্ববিনাশী উন্নয়ননীতি এবং বাণিজ্যকীকরণকে প্রশ্ন করে। বাবুপুর গ্রামবাসীদের এই প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ এবং একতার প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। দেলদুয়ারের খেলার মাঠের এই উদাহরণ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক।
সরকার বাবুপুর গ্রামের এই খেলার মাঠের উদাহরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। খেলার মাঠের জন্য জমি দরকার প্রায় ১৮০ শতক। বাকি ১২০ শতক জমি কেনার জন্য প্রধানমন্ত্রী সাড়ে চার কোটি টাকার তহবিল অঙ্গীকার করেছেন। আশা করি, বাবুপুর গ্রামের এই খেলার মাঠ দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় শিখনস্থল হয়ে ওঠবে। এই মাঠ কেবল ক্রীড়াবিদ নয়, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলবে। যারা দেশব্যাপী খেলার মাঠসহ সব গণপরিসর দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সব নাগরিকের মাঠ ও উদ্যানের অধিকার নিশ্চিত করবে।
দুনিয়ার তাবত ‘খেলার মাঠ’ মানবসভ্যতার বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের সাক্ষী। এক একটি খেলার মাঠ এক এক অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ইতিহাস। মূলত শারীরিক ও মানসিক বিনোদন ও সুরক্ষায় গড়ে ওঠা ‘খেলার মাঠ’গুলো বহু স্মৃতি-বিস্মৃতির দলিল। খেলার মাঠেই বহু শিশুদের সামাজিক পাঠ হয়। বন্ধুত্ব, বনিবনা, মনোমালিন্য, হারজিত, দ্বন্দ্ব রূপান্তর, নেতৃত্ব, দাদাগিরি, সহানুভূতি, তর্ক, সংঘাত কিংবা ভাগাভাগির সংস্কৃতি সবই থাকে খেলার মাঠে। ‘খেলার মাঠ’ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে না, প্রকৃতির মাঝেই এটি সামাজিক নির্মাণ।
বাংলাদেশের প্রাচীন খেলার মাঠ কোনটি? হয়তো কোনো গ্রামে, পাহাড়ে কিংবা নদীর তিরে বা প্রাচীন বৃক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কোনো খেলার মাঠ। হয়তো কিছু শিশু কোনো ছোট্ট জমিনে কোনো একদিন দাড়িয়াবান্ধা, বৌচি, পাতাপলান্তি কিংবা গোল্লাছুট খেলা শুরু করেছিল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেটিই একসময় পাবলিক খেলার মাঠ হয়ে ওঠে। মুখে মুখে এই মাঠ একটি নাম নিয়ে বড় হয়ে ওঠে। কেবল খেলা নয়, দেশের অনেক মাঠ নানা সামাজিক পরব, ধর্মীয় কৃত্য, জমায়েত ও গণআন্দোলনেও ভূমিকা রাখে। আবার কখনো-বা আমন ও বোরো মওসুমের ধান কাটার পর হাওর ও বিলজমিন মৌসুমি খেলার মাঠ হয়ে ওঠে। ‘খেলার মাঠ’ এক জীবন্ত সত্তা। মানুষের প্রতিদিনের ক্রীড়া, কসরত কী যত্নেই খেলার মাঠ ‘খেলার মাঠ’ হিসেবে জীবন্ত থাকে।
নগরায়ণ, শিল্পায়ন, দখল কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে আমাদের স্মৃতিময় খেলার মাঠ গুলো আজ বিপদে। খেলার মাঠ বাঁচাতে দেশজুড়ে আজ লড়ছে মানুষ। আজ যখন দেলদুয়ারে গ্রামবাসীরা নিজেদের টাকায় একটু টুকরো খেলার মাঠ কিনছে এবং সরকার সেই মাঠ আরো বড় করতে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে তখন আমাদের সামনে ঢাকার তেঁতুলতলা, নেত্রকোণার বলাইশিমূল বা রাজশাহীর তানোর গোকূল-মথুরা খেলার মাঠ রক্ষার দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতি সামনে দাঁড়ায়।
নেত্রকোণার কেন্দুয়ার বলাইশিমূল ইউনিয়নে এক শতবর্ষী খেলার মাঠের নাম বলাইশিমূল মাঠ। উক্ত মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি গৃহ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল।
বলাইশিমূল মৌজায় ৮৫ একর খাসজমির ভেতর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য ১০ একর জমি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন খেলার মাঠের এক একর ৮০ শতাংশ ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে মাঠটিকে দখল করেছিলেন। মাঠরক্ষা আন্দোলনকারীদের বিরদ্ধে প্রশাসন মামলা হামলা করে। মাঠরক্ষা গণকমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আল আজাদ, আবদুল আওয়াল মাস্টার, মামুনুর রহমান খান হলিসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ২০২২ সনের ১ জুলাই বলাইশিমূল মাঠ রক্ষায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন হয়। ১২ জুলাই কেন্দুয়ায় সহস্র মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট বলাইশিমূল মাঠে নির্মাণকাজের ওপর তিনমাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু খেলার মাঠের শ্রেণি জোর করে পরিবর্তন করে এখন এটিকে ‘কান্দা জমি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন কোনো এলাকা খেলার মাঠ, ঈদগাহ বা অন্যকোনো জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যবহার করলে সেটি পাবলিক উন্মুক্ত স্থান হিসেবে গণ্য হয়ে যায়। কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটিও এমনি এক উন্মুক্ত খেলার মাঠ। খসড়া ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) এই মাঠকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবেই দেখানো হয়েছে। তেঁতুলতলা মাঠে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ পায় পুলিশ। ২০২২ সনের ৩১ জানুয়ারি মাঠটিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এলাকার শিশু-কিশোরেরা সারাদিন সেখানে খেলাধূলা করে। রাতে তিন শিশুকে ধরে পুলিশ মাঠে নিয়ে কানে ধরে ওঠবস করায় এবং ‘মাঠ চাই না’ এমন স্বীকারোক্তি নেয়। শিশুদের শাস্তি দেওয়ায় কলাবাগান থানার এসআইসহ তিন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়।
ডিএমপির পক্ষ থেকে ‘তেঁতুলতলা মাঠ কলাবাগান থানা পিএমপি ঢাকার নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত’ এমন একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। এরপর থেকেই তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে নামে এলাকাবাসী। ২৪ এপ্রিল ২০২২ পুলিশ মাঠে প্রাচীর নির্মাণের কাজ মুরু করলে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কর্মী সৈয়দা রত্না তার পুত্রসহ সেখানে গিয়ে ফেসবুক লাইভ শুরু করেন। পরে পুলিশ তাদের ধরে থানায় নিয়ে যায়। এ নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে তর্ক-ক্ষোভ শুরু হলে ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। পরবর্তীকালে তেঁতুলতলা মাঠে থানাভবন না করে শিশুদের খেলার মাঠ হিসেবেই রক্ষা করার নির্দেশনা আসে। কিন্তু মাঠটি এখনো এলাকাবাসী সন্দেহমুক্তভাবে ফেরত পাননি।
১৯৪৬ সালে লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মান্দারী মাঠটি বেশ প্রাচীন। সরকারিভাবে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা মান্দিারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। মাঠটি রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করে। পার্বত্য রাঙামাটিতে সমতল খেলার মাঠ খুব বেশি নেই। লংগদুর বাইট্টাপাড়া মাঠটি এলাকার শিশু, কিশোর, যুবদের খেলাধূলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খেলার মাঠে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হয় এবং মাঠটিকে বাঁচিয়ে মাঠের পাশেই এই মসজিদ নির্মাণের দাবি জানান এলাকার জনগণ। এ নিয়ে ২০২২ সনের ১১ মে লংগদু উপজেলা চত্ত্বরে এলাকার ‘মাঠ বাঁচাও, প্রজন্ম বাঁচাও’ দাবি নিয়ে ‘সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ এক মানববন্ধন করে।
সিলেটের ‘মুরারীচাঁদ কলেজ বা এমসি কলেজ’ দেশের এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে এটি দেশের সপ্তম প্রতিষ্ঠিত কলেজ। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এমসি কলেজের মাঠ এলাকার এক উল্লেখযোগ্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু মাঠ দখল ও বিনষ্ট করে কিছু অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২২ সনের ১৬ এপ্রিল এমসি কলেজের মাঠ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বলদীপাড়া-হলদিঘর গ্রামের হলদিঘর মাঠ এক ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এই মাঠে ভূমিহীনদের জন্য একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে গেলে এলাকাবাসীর সাথে দ্বন্দ্বে জড়ায় স্থানীয় প্রশাসন। ঐতিহ্যবাহী এ মাঠ রক্ষায় ঐক্যবব্ধ হয় মানুষ। ২০২২ সনের ১১ জুলাই শতবর্ষী এ মাঠ রক্ষায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধন। ২০২২ সনের ২১ আগষ্ট আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত হন নারী-শিশুসহ গ্রামবাসী অনেকেই এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১২০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই মৌজায় অবস্থিত লাউড়ের গড়ের এক সুপ্রাচীন পাবলিক খেলার মাঠের নাম ‘বড়গোপটিলা মাঠ’। এটি কেবল নিছক খেলার মাঠ নয়, লাউড়-মাহারাম অরণ্যের শেষ প্রাকৃতিক স্মৃতিচিহ্ন। অভিন্ন যাদুকাটা নদী লাগোয়া প্রায় ৩১২ একর ১নং খাস খতিয়ান লাউড়ের গড় টিলায় মাঠটি অবস্থিত। স্থানীয় মান্দি, হাজং জনগোষ্ঠী এই মাঠটির পত্তন করলেও পরবর্তীতে এই মাঠ দখলে নানা সময়ে মরিয়া হয়েছে এলাকায় নয়াবসতিস্থাপনকারী বাঙালিরা।
মাঠ রক্ষায় আন্দোলনকারীরা ২০২০ সনের ৭ সেপ্টেম্বর মাঠটি ফেরত চেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির কাছে আবেদন করে। ১৩ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে এক সালিশ বৈঠক হয়। আন্দোলনের মুখে স্থানীয় জনগণের ব্যবস্থাপনায় আবারো মাঠটি ফেরত দেয়া হয়।
খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সুরক্ষায় দেশে একটি আইন আছে। ‘মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০’। বেশ দীর্ঘ নামের এই আইনটি কার্যকরেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা।
আইন বলা হয়েছে, ‘...খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাদার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না।’
কিন্তু দেশে নগর কী গ্রাম সর্বত্র খেলার মাঠ দখল করে তাহলে কোন ক্ষমতায় কোন কর্তৃত্ববাদী বাহাদুরিতে অবকাঠামো বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে? বাবুপুর গ্রামের খেলার মাঠের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর এক দায়িত্বশীল প্রাণবিক উদাহরণ। কিন্তু একইসাথে দেশের সব মুমূর্ষু ও বিক্ষত খেলার মাঠকে দখল-দূষণ থেকে সুরক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। খেলার মাঠের অধিকার নাগরিক অধিকার। এটি মন-শরীর ও সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশের এক অন্যতম শর্ত। কিন্তু দেশজুড়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও প্রতিবেশের মতোই খুন হচ্ছে খেলার মাঠ। উন্নয়ন বাহাদুরিতে উধাও হচ্ছে শত শত টুকরো টুকরো ছোট-বড় খেলার মাঠ। নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলেন, একটি শহরে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটারে একটি করে খেলার মাঠ প্রয়োজন।
কেবল খেলা নয়, পাবলিক মাঠগুলো জনসংস্কৃতির এক দেশীয় মঞ্চ। এখানে পালাগান হয়, সার্কাস, ষাঁড়ের লড়াই, বারুণী, আড়ং, মওসুমী মেলা, ঘোড়দৌড়, যাত্রাপালা, বার্ষিক প্রতিযোগিতা, মাহফিল, কীর্তন কতকিছুর আয়োজন ঘটে এইসব মাঠে। আমাদের রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারকগণ কী জাতীয় সংসদে দশের খেলার মাঠের সুরক্ষায় জোরদার কোনো তর্ক তুলেছেন কখনো? একইসাথে খেলার মাঠ সকলের। কেবলমাত্র শিশু-কিশোর তরুণের নয়। নারী-পুরুষ সবার। সকল বয়স, শ্রেণি, জেন্ডার, বর্গ, জাতি, পেশা, ধর্ম সকলের। খেলার মাঠে কারোর প্রবেশাধিকার সংকৃচিত করা যাবে না, বরং প্রতিবন্ধীমানুষ সহ অসুস্থ ও প্রবীণদের জন্য খেলার মাঠে বিশেষ ব্যবস্থা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি। আশা করি বাবুপুর গ্রামের মানুষ তাদের খেলার মাঠটিকে অর্ন্তভূক্তি ও বহুত্ববাদ অনুশীলনের এক জীবন্ত মাঠ হিসেবে গড়ে তুলবেন। একই সাথে এই মাঠ সব প্রাণপ্রজাতি ও পরিবেশেরও সুরক্ষাকেও নিশ্চিত করবে আশা করছি।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
সিরাজগঞ্জে ১০৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ২:৩৯ PM · Sarabangla
আত্মসমর্পণ করা চরমপন্থীদের তথ্যে মিলল ১০৩ আগ্নেয়াস্ত্র
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ২:৩১ PM · Ajker Patrika
নাটোরে সপ্তম আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরীর গ্র্যান্ড ক্যাম্প ফায়ার অনুষ্ঠিত
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ২:০৯ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন | জাতীয় | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১:৪৭ PM · Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)
সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১:১৮ PM · এখন টিভি
শীতের সবজিতে সম্ভাবনার হাতছানি, কৃষকের চিন্তা বাজারদর
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১:১৭ PM · Ajker Patrika
