শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম : বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভুবনকে বহুমাত্রিক অবদানে সমৃদ্ধ করা মহামানবের ৭৩তম প্রয়াণ দিবস আজ বাইশে শ্রাবণ। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে পৃথিবী থেকে চিরপ্রস্থান গ্রহণ করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অতুলনীয় প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় আসীন করেছিলেন। ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান। আধুনিক বাঙালির রুচির নির্মাতা হিসেবে মনে করা হয় তাঁকে। কাব্য, সংগীত, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস, গল্প, ভ্রমণকাহিনি, শিশুতোষ রচনাসহ সাহিত্যের শাখা তাঁর প্রতিভাস্পর্শে স্বর্ণময় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তাঁর এসব কালজয়ী রচনা মানবতার জয়গানে চিরভাস্বর হয়ে আছে। চারুশিল্পেও তিনি যোগ করেছিলেন নতুনতর মাত্রা। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ জন্মগ্রহণ করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজ কর্মের মাধ্যমে সূচনা করে গেছেন একটি কালের। একটি সংস্কৃতির। কৈশোর পেরোনোর আগেই বাংলা সাহিত্যের দিগন্ত বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। তাঁর পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়েছে বাঙালীর শিল্প-সাহিত্য। বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সঙ্কলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য- ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদ ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সাহিত্যের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের গান বাংলা সঙ্গীত ভারতকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। আজকের বদলে যাওয়া সময়েও বিপুল ঐশ্বর্য নিয়ে টিকে আছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। এর আবেদন যেন কোন দিন ফুরোবার নয়। বরং যত দিন যাচ্ছে ততই রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাণী ও সুরের ইন্দ্রজালে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে বাঙালী। তাঁদের আবেগ অনুভূতি কবিগুরুর গানের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জাতীয় সঙ্গীতেরও রচয়িতা তিনি। সৃজন ও মননশীলতার পাশাপাশি সমাজ সংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, কৃষি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজেও তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষত এই বাংলায় শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসরে তিনি কৃষকদের কল্যাণে ক্ষুদ্রঋণব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন কর্ম ও জীবনাদর্শে।কবিগুরুর শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও বাঙালির চিন্তা-চেতনা ও মানসে তিনি প্রতিমুহূর্তেই নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছেন। আজও বাঙালি তার আনন্দ, উৎসব, বেদনা, বিষণ্নতায় রবীন্দ্রনাথের অজস্র বিচিত্র রচনায় খুঁজে পায় আপনাপন হৃদয়ানুভূতি। সেখান থেকে লাভ করে সংকট উত্তরণের সাহস, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, মঙ্গলকাজে আত্মনিয়োগের উদ্দীপনা, দুঃখের সান্ত্বনা। তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি।/ সকল খেলায় করব খেলা এই আমি- আহা,/ নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে নতুন বাহু-ডোরে,/ আসব যাব চিরদিনের সেই আমি। ৭৩তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার কবিগুরুকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে সারা বিশ্বের বাঙালী।
সম্পর্কিত সংবাদ
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে গ্রামবাসীর হাতে ভুয়া পশু ডাক্তার আটক
সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পার জামিরতা গ্রামে গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভুয়া পশু ডাক্তারকে আটক ক...
জাতীয়
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ধানম...
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্ডলের নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ ও হতদ...
ধর্ম
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল
আগামীকাল ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে ইয়ামেন শাহাজ...

