সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রাউতারা বালুর রিংবাঁধে সরকারের প্রতি বছর কোটি টাকা জলে
২৫ জুন, ২০২৬ এ ১:০০ PM

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : কৃষকদের ধান রক্ষার জন্য প্রায় ৩৮ বছর ধরে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে তোলা বালু দিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী রাউতারা রিং বাঁধ। ৩টি জেলার হাজার হাজার হেক্টর ধান রক্ষায় প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধে ব্যয় করে কোটি কোটি টাকা।
অথচ একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে প্রায় চার দশক ধরে অস্থায়ী বাঁধের নামে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারের এতো পরিমাণ টাকা জলে যেত না। নির্মিত এই রিং বাঁধে বরাবরই রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বাঁধে যে পরিমাণ মাটি ও বালি ফেলানোর কথা, তা বাঁধে ফেলানো হয় না কোন বছরই।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, গত চার বছরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিম পাশে ১ হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ বছরে এ বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। স্থানীয় কৃষকদের ধান রক্ষার নামে বালু দিয়ে অস্থায়ী এ বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙার কাজ চলছে চার দশক ধরে।
সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর তথা চলনবিলের হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমির ধান রক্ষার্থে একটি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা ১৯৮০ সালে শেষ হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি ১৯৮৮ সালে দেশব্যাপী ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যায় বাঘাবাড়ি-নিমাইচড়া অংশের রাউতারা স্লুইস গেটের পশ্চিমপাশে ভেঙে যায়। সেই থেকে প্রতি বছর ঐ অঞ্চলের কৃষি জমির ধান রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই স্থানে বালি দিয়ে রিং বাঁধ তৈরি করে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনাসহ চলনবিল অঞ্চলের প্রায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। কৃষকদের অভিযোগ, অনেক সময় বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ফলে আগাম বন্যার পানি ঢুকে উৎপাদিত ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এতে ধান কেটে ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ফসল কাটাই সম্ভব হয় না। তাই প্রতিবছরই রাউতারা রিং বাঁধকে ঘিরে উদ্বেগে থাকেন কৃষকরা। তবে এবার পানি তুলনামূলক কম থাকায় ধান কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে পাম্প হাউসসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে দুই ফসলি জমিতে বহুমাত্রিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এখানে একটি স্থায়ী বাঁধসহ একটা পাম্প হাউজ নির্মাণ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখানে একটি স্থায়ী বাঁধের পাশাপাশি আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণ করা হলে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, দুই ফসলি জমিতে বহুমুখী ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এতে এলাকার কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া প্রতিবছর বন্যার পানিতে এ অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে চরম সংকটে পড়েন খামারিরা। চারণভূমি ও ঘাসের জমি ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দেয়, ফলে পশুপালন ব্যাহত হয় এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং উক্ত রিং বাঁধের তদারকি কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং কম্বাইন বা মাল্টি-ভেন্ট রেগুলেটরসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বৃহত্তর পরিকল্পনা করা হচ্ছে ও এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
সূত্র: dailykaratoa.com
সম্পর্কিত সংবাদ
কালিয়াহরিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরশিদা জাহান নিপার গণসংযোগ ও পথসভা
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:২৬ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে লরি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১, চালক আটক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:২৫ PM · Daily Times Of Bangladesh
সিরাজগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান,গাঁজাসহ ২ জন গ্রেপ্তার
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৫১ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী মিলন মেলা ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ১৯ সেপ্টেম্বর
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৩৮ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
শাহজাদপুরে সেনেটারী ল্যান্ডফিল্ড এলাকায় বৃক্ষ রোপন করলেন জেলা প্রসাশক আমিনুল
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:৪৬ PM · dainiksokal.com
