শাহজাদপুর সংবাদ

সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১:৪১ AM

সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর এমপি আইনুল হককে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানগড়া বাজার এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি ভিপি আইনুল হক। সভা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় কয়েকজন তার গাড়ি ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে গাড়ি চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ঢিল ছোড়া হলে গাড়িটির কাচ ভেঙে যায়।

এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, জামায়াত-শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গাড়িতে হামলা করেছেন।

এমপির ভাতিজা মাহমুদুল হাসান ফারুকও অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘিরে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত ও পাথর ছোড়া হয়। পরে এমপিকে চান্দাইকোনা হয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মর্তুজা বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, টিটিসির স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি ছিল এবং এমপির গাড়ি থেকেই লোকজনের ওপর গাড়ি তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, একটি মিটিং শেষে ফেরার পথে আইনুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩, ওয়ারীতে ৮৭, মতিঝিলে ৬৫, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১১৮, গুলশানে ১০৫, উত্তরা বিভাগে ৩৭ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই তথ্য না আসে যে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সংকট তৈরির সাথে জড়িত।

সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সরকারি গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, সিন্ডিকেট দমনে সরকার কঠোর। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সরকারি গোডাউন এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকে, তবে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভতুর্কির বিষয়ে আলোকপাত করে সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি কেজি ডিএসপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভভর্তুকি প্রদান করছে।

ডিলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের উচিত সরকারকে এই কাজে সহায়তা করা, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানান, ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তাদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি সচিব বলেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির কেন্দ্রীয় ও জেলার প্রতিনিধি এবং সার ডিলার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে মেধাবী প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, ফুল ও গাছের চারা তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্যসচিব মো. এনামুল কাদির, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরের শেষ দিনে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইলের চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

পরে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক ও জনপথের রাস্তা থেকে ডা. আবু আলী ফকিরের রাস্তা পর্যন্ত আরসিসিকরণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: Kaler Alo

সম্পর্কিত সংবাদ