শাহজাদপুর সংবাদ

সাভারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেফতার আরও ৮

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১:৪৫ PM

সাভারে এসবি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেফতার আরও ৮

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই জনকে আটক করা হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের নাম মো. শুকুর ও মো. রাবিক।

ওসি সাইফুল জানান, র‍্যাব-৪, র‍্যাব-১০ এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। আট জনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আটক দুই জনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেফতার দেখানো হবে।

তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন র‍্যাব হেফাজতে রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় ব্যবহৃত সাদা কালারের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আমিনবাজার থেকে প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন (৪৬) রবিবার সকালে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিহত আলতাবের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি এসবি ঢাকার মালিবাগ জোনের এসআই ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায়। একই এলাকায় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলামের পোশাক কারখানা ‘এড্রইট ফ্যাশন’।

এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ওসি জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে থেকে ঘটনার সূত্রপাত। গ্যারেজের সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে আসামি জহরুলের সঙ্গে প্রথমে এক রিকশাচালকের ও পরে গ্যারেজমালিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের তর্ক হয়।

ওসি জানান, এক পর্যায়ে আবুল কালামকে মারধর করেন জহরুল। সে সময় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এসআই আলতাব। ঘটনা দেখে মারধরে বাধা দিতে এগিয়ে যান তিনি। ততক্ষণে ফোন করে অনেককে ডেকে আনেন জহরুল। তারা চড়াও হন আলতাবের উপরেও। দৌড়ে ছেলের কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে ছিলেন তার ছোট ছেলে আরিফুল।

বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় ঢুকে পড়ে। আলতাবকে লোহার রড, এসএস পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয় ছেলে আরিফুলকেও। এরপর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে আড়াই লাখ টাকা লুট করে চলে যায়।

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ