শাহজাদপুর সংবাদ

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৪১ AM

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট সোমবার তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন । ওইদিনই ওই শিক্ষকের চাকরি জীবনের শেষ কর্ম দিবস ছিল।

তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়া ১০ দিনের সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পক্ষ থেকে হিসাব-নিকাশ যাচাই করে দাখিল করার কথা জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনার কিছু বিষয় নিয়ে অসঙ্গতি দেখা গেছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবসর গ্রহণের সময় বা এর পর বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র তাঁর কাছে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী কারণে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

অভিযোগের বিষয়ে মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। তিনি হিসাব-নিকাশ যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবেন। এছাড়া বিদ্যালয় থেকে নথি সরানোর কথা অস্বীকার করেন তিনি।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম জানান আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। মাদ্রাসার নথির কথা বলে ওই সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া সাথে তার ছেলে ও আর একজন লোক নিয়ে কিছু নথি নিয়ে গেছে।

শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সাইদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ১০ দিন সময় নিয়েছেন। হিসাব-নিকাশ দাখিল না করায় তাঁকে এখনো অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।”

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে প্রথম শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল চলতি বছরের গত ৩১ আগস্ট। তাঁর অবসর গ্রহণের সময়ের সঙ্গে আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: Ekushey Sangbad

সম্পর্কিত সংবাদ