শাহজাদপুর সংবাদ

ভালুকের ঘুম ভাঙিয়ে জরিমানা

১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৩৩ AM

ভালুকের ঘুম ভাঙিয়ে জরিমানা

নরওয়ের সালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে এক ব্যক্তি ফগহর্ন বাজিয়ে দারুণ বিপদে পড়েছেন। তাঁর ফগহর্নের শব্দে ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরু ভালুকের ঘুম ভেঙে যায়। এ কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার ক্রোনার জরিমানা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ঘটনাটি ঘটে। উত্তর-পশ্চিম সালবার্ডের একটি সমুদ্রখাঁড়ি দিয়ে একটি জাহাজ চলার সময় কেউ একজন সেটির ফগহর্ন বাজালে একটি ঘুমন্ত মেরু ভালুক জেগে ওঠে। এলাকাটি উত্তর মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে।

গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার জন্য পরে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর। ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ওই অঞ্চলের আইন অনুযায়ী, বিনা কারণে কোনো মেরু ভালুককে বিরক্ত করা, সেগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা বা সেগুলোকে তাড়া করা আইনত নিষিদ্ধ। ১৯৭২ সালে সালবার্ডে মেরু ভালুককে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জরিপে সালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ২৫০টি মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গভর্নর লার্স ফাউসে এক বিবৃতিতে বলেন, জাহাজটি ভালুকটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটির আরোহীরা স্থলভাগে একটি মেরু ভালুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছে বলে জানা গেছে।

মেরু ভালুকটিকে দেখতে পেয়ে নৌযানে থাকা এক ব্যক্তি জাহাজের ফগহর্ন বাজান। এতে মেরু ভালুকটি জেগে ওঠে এবং অন্য একটি স্থানে চলে যায় বলেও জানান তিনি।

সালবার্ড অঞ্চলে প্রাণীদের বিরক্ত করার কারণে মানুষকে জরিমানা করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

২০২৪ সালে একজন পর্যটক একটি ওয়ালরাসের (মেরু অঞ্চলের বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী) খুব কাছে চলে যাওয়ার কারণে তাঁকে ১১ হাজার ৫০০ ক্রোনার (১ ক্রোনার সমান প্রায় ১৩ টাকা) জরিমানা করা হয়েছিল।

সালবার্ডের পরিবেশ আইন অনুযায়ী, দ্বীপপুঞ্জে সব ধরনের চলাচল এমনভাবে করতে হবে, যাতে সেখানকার বন্য প্রাণীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরক্ত করা না হয়। এসব বন্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মেরু ভালুক, সিল, তিমি, বল্গা হরিণ ও মেরু শিয়াল।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ