নিয়োগ, কোচিং, ভর্তি: বারবার কেন আলোচনায় আইডিয়াল স্কুল
১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:০০ AM

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নীতিমালার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো এবং পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক। রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে গত এক যুগের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। এবার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ১০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অ্যাডহক কমিটির এখতিয়ার, প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
প্রতিষ্ঠানটির অতীত নিয়োগ নিয়ে ২০২২ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। পরের বছর বিষয়টি অনুসন্ধানে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ২০১৮ সালে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে বিতর্ক এবং ২০২৪ সালে ছেলেদের পোশাকবিধিতে টুপি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় পরিসরে কোচিং করানোর অভিযোগও উঠেছে।
এসব ঘটনায় অভিযোগের ধরন আলাদা হলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিধি অনুসরণ ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
গত ২৩ আগস্ট আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয় অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ও ২৮ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত আরও দুটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
২৮ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে লিখিত পরীক্ষার জন্য ২১ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়। তালিকায় প্রথমে রয়েছে মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের নাম। তার বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, প্রার্থী বাছাইয়ে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে এবং তালিকায় তাকে প্রথমে রাখার ভিত্তি কী, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে অ্যাডহক কমিটির এখতিয়ার নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ কমিটি মূলত প্রতিষ্ঠানের রুটিন দায়িত্ব পালন করে। নিয়মিত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এরপরও এ কমিটির মাধ্যমে ১০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের বিভিন্ন নথিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে গভর্নিং বডি ও নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে ১০ জনের নিয়োগ কোন বিধির অধীনে, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এবং অ্যাডহক কমিটির কী ক্ষমতাবলে হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য মো. শাহাদাত ঢালী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি অ্যাডহক কমিটির এ ধরনের নিয়োগ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিয়োগে অনিয়ম হয়ে থাকলে লিখিত পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এগুলো খণ্ডকালীন নিয়োগ। অল্প অল্প বেতনে আমাদের লিফটম্যানদের সমস্যা, লিফটম্যান নাই। খণ্ডকালীন, অল্প বেতন।’
নিয়োগের মেয়াদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অ্যাডহক কমিটি, মানে সাধারণত খণ্ডকালীন বলা থাকলে তাদের মেয়াদ পর্যন্তই থাকে।’
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে এর আগেও সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ডিআইএ’র পরিদর্শন ও নিরীক্ষায় ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পাওয়া চার শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। কিছু নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ও মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসরণ না করার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে ১১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত ৯৯ জনকে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছিল। ২০১৩ সালে গভর্নিং বডির রেজুলেশনে ৯৪ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও ১৪২ জন শিক্ষক ও তিন কর্মচারীসহ মোট ১৪৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ রেজুলেশনের তুলনায় ৫১ জন বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিভিন্ন শাখায় ৮৯ জন, বনশ্রী শাখায় ৬৯ জন এবং ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২১ সালে মুগদা শাখায় ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসরণ না করার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তিন সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ও সনদ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল।
ডিআইএ’র প্রতিবেদনের পর ২০২৩ সালে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। সংস্থাটি ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা এবং প্রতিষ্ঠানের ১৩ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিল। দুদকের তৎকালীন কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক জানিয়েছিলেন, নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েও ২০১৮ সালে বিতর্ক তৈরি হয়। নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে তখন গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ ছিল, আসন শূন্য না থাকলেও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এক পক্ষ মোট ভর্তির ১৫ শতাংশ বা অন্তত ৩৬০ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কথা বললেও অন্য পক্ষ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি সাবেক সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেছিলেন, নীতিমালার বাইরে ভর্তি করা উচিত হবে না। বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করালে অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি চলে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকেও আসন না থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক কয়েকশ থেকে শুরু করে ৭০০, ৮০০, এমনকি প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পর্যন্ত কোচিং করান। রাজধানীর শাহজাহানপুর, বনশ্রী, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কোচিং পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নিজাম উদ্দিন কামালের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে কোচিং করানোর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা কী (এত শিক্ষার্থী) সম্ভব?’ কতজনকে কোচিং করান জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।
সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সাখাওয়াত সোহেলের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে কোচিং করানোর অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন। ইংরেজি শিক্ষক শরীফ পেনু বলেন, ‘আমি এখন ছাত্র পড়াই না।’ তবে গণিতের শিক্ষক জিসান আহমদ ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থী পড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আপনি এসে ভিজিট করে যান, আমি অল্প কিছু ছাত্র পড়াই। প্রতি ব্যাচে ২০ জনের বেশি পড়াই না।’
নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজ স্কুল বলতে আমি যে শাখায় ক্লাস নিই, সেই শাখার কোনও শিক্ষার্থীকে পড়াই না। অন্য শাখার স্টুডেন্ট পড়াই। অন্য শাখার স্টুডেন্ট তো অন্য স্কুলের মতোই।’
ইংরেজির শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী, টেনেটুনে চলে আর কী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন কোনও টিচার নেই যে পড়ান না। যারা ভালো টিচার তারা সবাই পড়ায়।’ অন্যদিকে ইংরেজির আরেক শিক্ষক মুরাদ আহমেদ কোচিং করানোর অভিযোগকে ‘মিথ্যা বানোয়াট’ বলে দাবি করেন। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মহিউদ্দিনও ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী পড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন ১০০ জনেরও কম।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের আর্থিক সংকট কোচিংয়ের পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তার দাবি, সরকারি নীতিমালায় একটি শ্রেণিতে ৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও তাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় ৬০ থেকে ৭০ জন ভর্তি করা হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে সবার পড়া সমানভাবে কভার করা কঠিন হয়। ঢাকায় বাসাভাড়াসহ জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শিক্ষকদের বেতন কম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ অনুযায়ী, কোনও শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। নীতিমালায় বাণিজ্যিকভাবে কোচিং পরিচালনা, শিক্ষার্থী সংগ্রহ এবং কোচিংয়ের প্রচার-প্রচারণার ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অন্যতম রিটকারী অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘আইন করে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। লোক দেখানো নীতিমালা দিয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা যাবে না। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হলে কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে হবে এবং কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিভিন্ন মেয়াদি শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও সরকারি মনিটরিং জোরদার করলে কোচিং বাণিজ্য অনেকটা বন্ধ হবে। শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা জরুরি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছেলেদের পোশাকবিধিতে টুপি বাধ্যতামূলক করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ১২ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে ছেলেদের জন্য টুপি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হলেও পরদিন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য টুপি পরা বাধ্যতামূলক। নতুন পোশাকবিধি ১৪ আগস্ট থেকে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছিল।
সমস্যা আছে স্বীকার করে অধ্যক্ষ বললেন, ‘সবাই মিলে চেষ্টা করলে সমস্যার সমাধান হবে’
প্রতিষ্ঠানে কোচিং করানো শিক্ষক এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, তিনি এখানে নতুন, সাড়ে তিন মাস হয়েছে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন, সাড়ে তিন মাসের। আমি যেটা, মানে আমার কলেজের বা স্কুলের যে বিষয়, ক্লাসটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, এর বাইরে ধরেন একজন মানুষ বাসাবাড়িতে করলো, কেউ ঘরে করলো, এটা তো আমার খোঁজ নেওয়া মুশকিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেড দেওয়া আমাদের কাজ না। এটা পুলিশের অ্যাকচুয়ালি, শিক্ষা মানে ডিসি সাহেবের, শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট, ডিসি সাহেব, এডিসি শিক্ষা, এগুলা কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। আমি যদি আমার কলেজে করতো, আমি বুঝতে পারতাম। আমাদের তো লোকের বিষয়, ক্ষমতা আমাদের দেওয়া নেই।’
শিক্ষকদের আর্থিক সংকট এবং কোচিং করানোর বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘সমাজে চলতে হলে তো আপনাকে অনেকগুলা জিনিস অ্যাভয়েড করা যায় না। যারা সিনিয়র আছে, তারাও কোচিং করে। আমাদের অনেকগুলা সমন্বয় করে আমরা যারা প্রশাসক, আপনি বুঝবেন, প্রশাসক গতি রাখতে হয়। তাছাড়া তো অনেক সময় সমস্যা হয়।’
প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তিন মাসে এসে যা দেখছি, এটা কিছুটা সমস্যা ছিল। আগে শুনছি, এটা মনে ছিল। যা ঘটে, যা রটে, কিছু না কিছু ঘটে, কিছুটা ছিল আগে।’
নিজের দায়িত্বকালে অনিয়ম হয়নি দাবি করে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি আসার পরে সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে আমরা সবকিছু সরকারি নিয়ম মাফিক করার চেষ্টা করছি। আপনি দেখেন, আমি এখনও অফিসে। সাড়ে ৮টায় ঢুকি, ৯টার মধ্যে নিয়ে থাকি, ছেলেদের লেখাপড়া, অফিসিয়াল কাজ। আমার এই যে তিন মাসে আমি আসছি, এর ভেতরে কোনও অনিয়ম হয়নি একদম।’
ভবিষ্যতে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কত পারবো, আল্লাহ যেন...।’ পরে আবার তিনি বলেন, ‘সমস্যা আছে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে সমস্যার সমাধান হবে।’
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
শাহজাদপুরে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:২৩ PM · www.dainiksokal.com
শাহজাদপুরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:৩৩ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
শাহজাদপুরে দোকানের টিন কেটে মুদির দোকানে লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৪:৪৬ PM · www.dainiksokal.com
সম্মিলিত প্রয়াসের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে আলোচনা সভা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৫৪ PM · প্রতিদিনের কাগজ
