শাহজাদপুর সংবাদ

দুর্গোৎসবে বর্ণিল আলোকসজ্জায় ঝলমল সিরাজগঞ্জ

২০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০১ AM

দুর্গোৎসবে বর্ণিল আলোকসজ্জায় ঝলমল সিরাজগঞ্জ

সন্ধ্যা নামতেই যেন আলোর মায়াবী চাদরে ঢেকে যায় পুরো সিরাজগঞ্জ শহর। সড়কের দুপাশে নানা রঙের ঝলমলে বাতি, মন্দিরে মন্দিরে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা আর ঢাক-ঢোলের ছন্দে মুখর চারপাশ। কোথাও আলোর ঝলকানি, কোথাও পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার অপরূপ প্রতিমা সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে এক বর্ণিল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিরাজগঞ্জ।

শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, বিপণিবিতান থেকে পূজামণ্ডপ সবখানেই উৎসবের ছোঁয়া। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই জ্বলে উঠছে রঙিন আলোকসজ্জা। সেই আলোয় নতুন রূপে ধরা দিচ্ছে শহরের পরিচিত পথঘাট। আলোকসজ্জা দেখতে সন্ধ্যার পর থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বের হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, উৎসবের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আশপাশের এলাকা থেকেও ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

কেউ পরিবারের সঙ্গে সেলফি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত, আবার কেউ ব্যস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করতে। শিশুদের উচ্ছ্বাস, তরুণ-তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য আর বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে উৎসবের হাসি সব মিলিয়ে সন্ধ্যার পর শহরের রাস্তাঘাট ও পূজামণ্ডপগুলো হয়ে উঠছে মিলনমেলায়। কোথাও ফুচকা, কোথাও ঝালমুড়ি পথের খাবারের দোকানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও পূজা-অর্চনা। মৃন্ময়ী প্রতিমা সেজেছে চিন্ময়ী রূপে। প্রতিমার শৈল্পিক নির্মাণ, রঙের বৈচিত্র্য আর মণ্ডপের নান্দনিক সাজসজ্জা মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। ঢাকের বাদ্য, কাঁসার শব্দ, ফুল-ফল ও নানা নৈবেদ্যে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সম্প্রীতির মিলন।

শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, দুর্গোৎসব এখন সিরাজগঞ্জের মানুষের কাছে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও মিলনেরও উপলক্ষ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উপভোগ করছেন উৎসবের আমেজ।

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যে পূজামণ্ডপের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে কোথাও ৫৫১টি, কোথাও ৫৫৭টি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্যে ৫৬২টি মণ্ডপের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার ৫৫১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫৫ লাখ ১০ হাজার টাকার শুভেচ্ছা উপহারের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা। জেলা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য, গোয়েন্দা সদস্য এবং ট্রাফিক বিভাগ দায়িত্ব পালন করছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জেলার ৫৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৭৪৮ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ হাজার ৬৩০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৮৫টি মণ্ডপে দায়িত্বে রয়েছেন ৫৮৬ জন সদস্য। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনসার ব্যাটালিয়নের দুটি বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সও সক্রিয় রয়েছে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১২)-এর একাধিক টিম ও মোবাইল টিমও দায়িত্ব পালন করছে।

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুও বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা ও দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ,খনিজ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

সব মিলিয়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা, প্রতিমার সৌন্দর্য, ঢাকের বাদ্য আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সিরাজগঞ্জজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ। রাতের আকাশের নিচে ঝলমলে শহর আর পূজামণ্ডপের আলোকচ্ছটা যেন একসঙ্গে বলে দিচ্ছে দুর্গোৎসব শুধু পূজার নয়, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনেরও উৎসব।

সূত্র: Daily Times Of Bangladesh

সম্পর্কিত সংবাদ