শাহজাদপুর সংবাদ

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসনে ৪ দফা দাবি

১৮ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:০২ PM

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসনে ৪ দফা দাবি

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও গেজেটে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া শিক্ষকদের দ্রুত ওই পদেই গেজেটভুক্তির দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক গেজেট থেকে বাদপড়া প্রধান শিক্ষক ঐক্যজোট’।সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা এসব শিক্ষককে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত করায় তারা প্রশাসনিক ও পেশাগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দাবি আদায়ে মহাপরিচালক, সচিব, সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকালে সংগঠনের বিভাগীয় আহ্বায়ক নাদিরা সুলতানা প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সরাসরি স্মারকলিপি দিয়ে বিষয়টি সমাধানের আবেদন জানান।ঐক্যজোটের নেতাদের দাবি, বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অনেক শিক্ষক অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রি কিংবা কামিল পাস করার পাশাপাশি পরবর্তীতে ডিপিএড, সিইনএড ও বিটিপিটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে তারা দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।যেভাবে তৈরি হয়েছে জটিলতা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তবে ঐক্যজোটের অভিযোগ, জাতীয়করণের পর প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের একটি বড় অংশকে প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটভুক্ত না করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে দ্বিতীয় ধাপের এবং ২০১৮ সালের ১৫ মার্চের প্রজ্ঞাপনে তৃতীয় ধাপের অনেক প্রধান শিক্ষকের নাম সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। প্রথম ধাপের কিছু শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেও একই ধাপের অন্যরা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের অনেক শিক্ষক সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।শিক্ষক নেতারা বলেন, সংবিধানের ১৩৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপযুক্ত কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে কোনো সরকারি কর্মচারীকে পদাবনতি দেওয়া যায় না। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত করা তাদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে।তাদের আরও দাবি, এসব শিক্ষকের অনেকে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বা শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। ফলে তাদের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধান শিক্ষক পদেই গেজেটভুক্ত করা প্রয়োজন।ঐক্যজোটের ৪ দফা দাবি১. জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে গেজেটভুক্ত করা।২. বিদ্যমান আইন, পরিপত্র ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান করা।৩. প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বৈষম্য ও জটিলতার অবসান ঘটানো।৪. সরকারের ঘোষিত প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতির তালিকায় জাতীয়করণের সময় বাদপড়া প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান করা।ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, জাতীয়করণকৃত বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের জন্য বিষয়টি শুধু পদসংক্রান্ত নয়; এর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।

The post জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসনে ৪ দফা দাবি appeared first on দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ.

সূত্র: দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ