জন্মদিনে জেমস: জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:০৭ PM

শুক্রবার (২ অক্টোবর) নগর বাউল জেমস'র জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই রকস্টার ৬৩ বছরে পা রাখলেন। আশির দশকে ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে শুরু করে ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’, ‘পাগলা হওয়া, কিংবা বলিউডের ‘ভিগি ভিগি’, ‘আলবিদা’ দিয়ে যুগের পর যুগ শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি। ষাট পেরোনো এই সংগীত তারকা আজও ভক্তদের হৃদয়ে একই অনুভূতি, উন্মাদনার এক নাম।
জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পূর্বাচল ক্লাবে র্দীর্ঘ সংগীত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-এন আই বুলবুল
জীবনের বিশেষ এমন দিনে পেছনে ফিরে তাকালে আপনার কোনও পরবর্তন দেখেন?
আমার পরিবর্তন তো অন্যরা দেখবে, তারা বলবে কি পরিবর্তন হয়েছে। আমি নিজে তেমন কোনও পরিবর্তন দেখি না। কেবল মনে হয় মাথার চুল হয়তো কিছুটা কমেছে, এই যা!
জন্মদিন আমি কখনো জাঁকজমক বা ঘটা করে পালন করি না। ভক্তরা নানা আয়োজন করে, আমি দূর থেকেই সেগুলো দেখি আর ভালোবাসা অনুভব করি। আলাদা কোনও পরিকল্পনা এবারও নেই।
জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই। নিজের মতো বাঁচো, নিজের ভালো করো। অনেকে বলে পুরো দেশের ভালো করবো। আমি বলবো, পুরো দেশের ভালো করার চেষ্টা না করে নিজের ভালো করো, সবার সবার ভালোটা করো। তাহলে অটোমেটিক দেশের ভালো হয়ে যাবে।
আনন্দ নিয়েই তো বাঁচতে হয়। আমি সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাই। এই যে আজকে তোমাদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি, এটাই তো অনেক বড় আনন্দ! জীবনে দুঃখ ধরে রাখার পক্ষে আমি নই; দুঃখকে সব সময় মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্তমানের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এবং এর ভবিষ্যৎকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
গান এখন সহজলভ্য হয়ে হয়ে গেছে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। একটা সময় ফটোগ্রাফির ফিল্মের আমলে সবার মধ্যে ফটোগ্রাফার হওয়ার একটা অন্য রকম গুরুত্ব ছিল। কিন্তু এখন স্মার্টফোনের যুগে সবাই ফোন নিয়ে বসে আছে, সবাই নিজেকে ফটোগ্রাফার মনে করছে। আগের সেই গুরুত্বটি এখন আর কারও মধ্যে নেই। একই রকম আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এখন অ্যানালগ মাধ্যম থেকে ডিজিটাল হয়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছে। মিউজিক এখন শ্রোতাদের আর আগের মতো কিনতে হয় না; ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সবাই ফ্রিতে মিউজিক পাচ্ছে। যে জিনিস মানুষ বিনামূল্যে পেয়ে যায়, সেটার প্রতি মানুষের আগ্রহ খুব বেশি থাকে না।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের এই ফ্রিতে মিউজিক পাওয়া কি এখনকার শিল্পীদের পথ তৈরিতে বাঁধা মনে করেন?
বর্তমানে যারা গান করছে, তারা আমাদের চেয়েও অনেক বেশি ট্যালেন্টেড বলতে হয়। কিন্তু আমাদের সময়ের মিউজিশিয়ানরা অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিল। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ফলে এখন গানের আর্থিক মূল্য আগের মতো নেই। এর কারণে প্রফেশনালি গান বানিয়ে বেঁচে থাকা এখন ভীষণ কঠিন। এখন মূলত যারা লাইভ পারফরম্যান্সে ভালো করবে, তারা কিছুটা ভালো থাকবে।
শ্রোতারা আপনার নতুন গান শুনতে চায়, নতুন গান প্রকাশে কোনও পরিকল্পনা আছে?
আগেই বলেছি, মিউজিক আমাদের অতিরিক্ত হয়ে গেছে। আগামী বিশ বছর কেউ যদি গান নাও করে, তাহলে এতদিন যে গান হয়েছে সেটা মানুষ শুনতে পারবে। তারপরেও নতুন গান করার ইচ্ছে আছে। তবে সেটা কখন করবো তার সঠিক সময় বলতে পারছি না। কনসার্ট, দেশ-বিদেশের ট্যুর এবং লাইভ শোর এত ব্যস্ততা থাকে নতুন গানের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা আপনাদের গানগুলো কাভার করে। কাভার করার এ চর্চাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটাকে ভিন্নভাবে দেখার কিছু নেই। গান তো তৈরিই করা হয়েছে মানুষের শোনার জন্য। যার যেভাবে ইচ্ছে সে সেভাবে গাইবে। এতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। এ ছাড়া সংস্কৃতি হলো নদীর মতো। নদী যেমন তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে, সংস্কৃতিকেও তেমনি বইতে দিতে হয়। সেখানে বাধা দেওয়া বা নিষেধ তৈরি করা মোটেও ভালো কিছু নয়।
সংগীতে এআই’র প্রভাব এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আধিপত্যকে কীভাবে দেখছেন?
সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। সে ধারাবাহিকতায় এআই তো শুধু মিউজিক বা ছবি নয়, কোডিং বা অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করে দিচ্ছে। মিউজিশিয়ানদের যদি এআই বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই তা কাজে লাগানো উচিত। তবে আমি মনে করি, এখন যারা গান করছে তারা প্যাশন থেকেই করছে।
আপনি শামসুর রাহমানের কবিতা নিয়ে একটি গান করেছেন। এরপর আর গান করা হয়নি কেন?
শামসুর রাহমান আমার জন্য বেশ কিছু গান লিখেছিলেন, তবে দুর্ভাগ্যবশত সেগুলো রেকর্ড করা হয়নি। কারণ গানগুলো হারিয়ে গেছে। তবে তার লেখা ‘তারায় তারায়’ গানটির সঙ্গে আমার অনেক চমৎকার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমার নিজের গাওয়া গানের মধ্যে এ মুহূর্তে স্টেজে যেগুলো পারফর্ম করছি, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রিয় গান।
আইয়ুব বাচ্চুর সাথে আপনার প্রতিযোগিতা নিয়ে একসময় দেশজুড়ে তুমুল উন্মাদনা ছিল। আপনাদের সম্পর্ক এবং প্রতিযোগিতা কেমন ছিল?
বাচ্চুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ ছিল । আমাদের মধ্যে গানের একটা সুস্থ ও দারুণ প্রতিযোগিতা ছিল। আমরা তখন এক শিল্পী অন্য শিল্পীর রেকর্ডিংয়ে যেতাম। আমি স্টুডিওতে রেকর্ড করছি, বাচ্চু হয়তো চলে এল; আবার হয়তো সে রেকর্ড করছে, আমি সেখানে গিয়ে বসে আছি। তখন সবাই স্টুডিওতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম, আমাদের মধ্যে মিউজিক নিয়ে নানা রকম আলোচনা হতো। কিন্তু এখন তো সেই পরিবেশ নেই। সবাই হোম স্টুডিওভিত্তিক কাজ করছে। কারও সঙ্গে কারও আগের মতো আড্ডার সেই সুযোগ নেই।
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে আপনার শেষ কী কথা হয়েছিলো, তাকে কতটা মিস করেন?
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে শেষ যে কথা হয়েছে সেটি প্রকাশ করতে চাই না। তা শুধু আমার মধ্যেই থাকু। তবে মাঝেমধ্যে ওর ওপর খুব রাগ হয়। কেন যে এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমাদের দুজনের শেষ দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
মিউজিশিয়ানদের যদি এআই ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই তা কাজে লাগানো উচিত: জেমস
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩০ AM · প্রথম আলো
নিজের সিনেমার প্রচারণায় বাদ পড়লেন শ্রীলেখা, ক্ষোভ অভিনেত্রীর
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:২৩ AM · বাংলা ট্রিবিউন
টম ক্রুজের ‘ডিগার’ থেকে ‘স্ট্রিট ফাইটার’, অক্টোবরে আসছে ৬ সিনেমা
১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:০০ PM · বাংলা ট্রিবিউন
‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষার মৃত্যুর ১০ বছর পর প্রেমিক রাহুলের বিরুদ্ধে কী রায় হলো
১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৫ PM · বাংলা ট্রিবিউন
