শাহজাদপুর সংবাদ

কামারখন্দে গরু চুরির পর ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুট,ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এসপির

১৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:১৪ AM

কামারখন্দে গরু চুরির পর ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুট,ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এসপির

কামারখন্দ প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজলায় চুরি ও ছিনতাই এর ঘটনা বেড়েই চলেছে। এবার এক গামছা ব্যবসায়ীর বাড়িতে রাতে ঢুকে তার স্ত্রীকে বেঁধে এবং দুই শিশুসন্তানকে ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি উপজেলায় চুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার পাইকোশা এলাকার লাহিড়ীবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নূরুল ইসলাম ওই এলাকার গামছা ব্যবসায়ী।

ঘটনার সময় নূরুল ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। গামছা বিক্রির কাজে তিনি গত সোমবার ঢাকায় যান। বাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী শরিফা বেগম (৩৪), মেয়ে সামিয়া (৮) ও ছেলে রিজওয়ান (৪)।

ব্যবসায়ীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় জানালার গ্রিল কেটে তিনজন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের একজন শরিফার গলায় রশি পেঁচিয়ে টানতে থাকেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে গামছা ও স্কচটেপ দিয়ে তার মুখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়।

এ সময় অন্য আরেকজন দুই শিশুকে ধরে ভয় দেখান এবং অন্যজন স্টিলের আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার, সাত ভরি রুপার অলংকার, নগদ ৩০ হাজার টাকা, ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের হিসাবে এসব মালামালের মূল্য প্রায় সাড়ে ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি।

পরে মেয়ে সামিয়া তার মায়ের মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শরিফার জ্ঞান ফিরলে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছি। আমি বাড়িতে ছিলাম না৷ তবে আমার স্ত্রীকে বেঁধে রেখে ও সন্তানদের ভয় দেখিয়ে সাড়ে চার ভড়ি স্বর্ণলংকার,৭ ভড়ি রুপার জিনিস, নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। একইসঙ্গে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্টস নষ্ট করে ফেলেছে।

এর আগে গত ৬ আগষ্ট উপজেলার জামতৈল ইউনিয়ন থেকে একই গ্রাম থেকে সাতটি গরু চুরি হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কামারখন্দ থানা পুলিশ পুলিশ। সার্বিক বিষয়ে কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, পাইকোশার ঘটনাটি চুরি হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলমান আছে। অন্যদিকে গরু চুরির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সব মিলিয়ে কামারখন্দে চুরি ছিনতই তাহলে বাড়ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শুধু আমাদের উপজেলায় না, সব জায়গাতেই। আমরা চেষ্টা করছি৷

সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি, যা যা প্রয়োজন আমি সব করব। কাউকে আটক করার প্রয়োজন হলেও, সেটা করার ব্যবস্থা করছি।

The post কামারখন্দে গরু চুরির পর ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুট,ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এসপির appeared first on দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ.

সূত্র: দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ