ঈদের আগে জমজমাট শাহজাদপুর কাপড়ের হাট
১১ মার্চ, ২০২৬ এ ১:০০ PM

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। গত বছরের তুলনায় এবার হাটে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার শাড়ি, লুঙ্গি ও অন্যান্য কাপড়ের বেচাকেনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সপ্তাহে দুই দিন—রোববার ও বুধবার বসে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সাধারণত আগের দিনই হাট এলাকায় এসে অবস্থান নেন। রমজান শুরুর পর থেকেই হাটে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ভিড় বেড়েছে। হাটজুড়ে শোনা যাচ্ছে দরদামের হাঁকডাক, আর চারদিকে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে নানা রঙের কাপড়ের গাঁট।
হাট-সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের আগে প্রতি হাটে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। রমজান শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকায়। আর ঈদের আগ মুহূর্তে এসে প্রতি হাটে বেচাকেনা প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিপুল এই লেনদেনের কারণে শাহজাদপুরের হাটকে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের পাইকারি হাট হিসেবে ধরা হয়।
হাটের পশ্চিম পাশে বগুড়া–নগরবাড়ি মহাসড়ক এবং আশপাশের আঞ্চলিক সড়কে সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শ্রমিকরা ব্যবসায়ীদের কেনা কাপড়ের গাঁট ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে তুলে ট্রাকভর্তি করছেন। পরে এসব কাপড়বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
এই হাটকে কেন্দ্র করে আশপাশে ছোটবড় আবাসিক ও অনাবাসিক হোটেল, খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলে থাকার ও খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভারতের ব্যবসায়ীরাও এ হাটের বড় ক্রেতা। তারা সাধারণত হাটের আগের দিন এসে অবস্থান করেন এবং শাড়ি ও লুঙ্গির কাপড় কিনে নিয়ে যান। এখানে বেশিরভাগ লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের মতে, সিরাজগঞ্জের শাড়ি ও লুঙ্গির চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে কাপড় নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে শোরুমে খুচরা দামে বিক্রি করেন। পাইকারি বাজারে এসব কাপড় জোড়া, পেটি ও থান হিসেবে বিক্রি হয়।
দেশজুড়ে এ অঞ্চলের তাঁতের কাপড়ের সুনাম রয়েছে। শাড়ি, লুঙ্গি, থান কাপড় ও থ্রিপিসসহ দেশি কাপড় কিনতে প্রতিদিনই হাটে ভিড় করছেন পাইকাররা। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর সব ধরনের কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবু স্থানীয় তাঁতে উৎপাদিত শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করে খরচ বাদে ভালো লাভ হচ্ছে।
হাটের ইজারাদার ও তাঁত মালিকরা জানান, বগুড়া–নগরবাড়ি মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতি হাটবারেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। তাদের আশা, ঈদ উপলক্ষে এবার মোট প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হতে পারে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতিটি হাটবারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: NTV BD
সম্পর্কিত সংবাদ
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ–৫ দুই সূচকেই সেরা বগুড়া
১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৯:০১ PM · প্রথম আলো
শাহজাদপুরে অগ্নিকাণ্ডে সুতার দোকান পুড়ে ছাই; দগ্ধ এক
১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৬:২৬ PM · Ajker Bangladesh
শাহজাদপুরে সুতো ও কাপড়ের দোকানে আগুন, ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি
১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৫:৫২ PM · দৈনিক ইনকিলাব
শাহজাদপুরে সুতার দোকানে ভয়াবহ আগুন, ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি দগ্ধ ১
১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৯:৩২ AM · সময়ের কণ্ঠস্বর
শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর অবশেষে সচল, স্বস্তি ফিরেছে রোগীদের মধ্যে
৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ১:৪০ PM · দৈনিক ইনকিলাব
