ইসলামি ধারার ব্যাংকের আমানত বেড়েছে
২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৪০ AM

ইসলামি ধারার ব্যাংকে এক মাসে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা।
এক বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে ১৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা।
এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ও স্থবিরতা কাটিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরছে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর সূচক। গত জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দেশের ইসলামি ধারার এসব ব্যাংকে আমানত, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), বৈদেশিক বাণিজ্যসহ প্রায় প্রতিটি প্রধান সূচকে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
দেশে মোট ইসলামি ধারার ব্যাংক রয়েছে ১০টি। এগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে একীভূত হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
আগস্ট শেষে ইসলামি ধারার ব্যাংকে মোট জনবল দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১২৪ জন, যা জুলাই মাসে ছিল ৪২ হাজার ১১৫ জন। এসব ব্যাংকের মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক।
সূচকে উন্নতি
ইসলামি ধারার ব্যাংকে আমানত বেড়েছে। গত আগস্ট শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। গত জুলাই মাসে যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসাবে দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ে (আগস্ট ২০২৫) এই আমানত কমেছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে অর্থায়নে ইসলামি ধারার ব্যাংকের অবদান অব্যাহত রয়েছে। গত আগস্ট শেষে এসব ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। জুলাই শেষে বিনিয়োগ ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৮ কোটি টাকা। আর ২০২৫ সালের আগস্টে বিনিয়োগ ছিল ৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত এক বছরে এসব ব্যাংকে বিনিয়োগ বেড়েছে ১৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বা দশমিক ৩৩৬ শতাংশ।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখিয়েছে। গত আগস্ট মাসে এ ধরনের ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। জুলাই মাসে যা ছিল ৫৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের মাসের চেয়ে ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
বৈদেশিক বাণিজ্যেও ইসলামি ধারার ব্যাংকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আগস্ট মাসে এসব ব্যাংকে মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি জুলাইয়ের (৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার) চেয়ে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ৫২ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা জুলাইয়ে ছিল ৫৬ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে।
এনসিসি ব্যাংক পরিকল্পনা জমা দিয়েছে
প্রচলিত ধারা থেকে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরের প্রস্তুতি শুরু করেছে বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংক। ইতিমধ্যে চারটি শাখা পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তর করেছে। চলতি বছরে আরও কয়েকটি শাখা এমন পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তর ও ইউন্ডো চালুর পরিকল্পনা করেছে ব্যাংকটি।
পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংক হতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরে ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তর হতে চায়। এ জন্য রূপান্তরের রূপরেখা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে ব্যাংকটি।
এর আগে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক প্রচলিত থেকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে রূপান্তর হয়। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক নাম পরিবর্তন করে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক হয়। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক নাম বদলে হয় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। একইভাবে এনসিসি ব্যাংকেরও নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে।
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নূরুন নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই এনসিসি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হয়ে উঠুক। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যত নির্দেশনা আছে, তা মেনে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী বছরে পূর্ণ ইসলামি ব্যাংক হিসেবে রূপান্তর হবে এনসিসি ব্যাংক।’
গত কয়েক বছরে দেশে ইসলামি ধারার ব্যাংকের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ জন্য অনেক ব্যাংক এখন ইসলামি ধারার ব্যাংক হতে চায়।
গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এক চিঠিতে ৬২টি প্রচলিত শাখায় ‘ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো’ চালুর অনুমতি চেয়ে আবেদন করে ব্যাংকটি। এসব শাখা ক্রমান্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ব্যাংকটি। ব্যাংকটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে আরও ৪০টি শাখাকে ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের আর্থিক চিত্র জমা দিয়েছে ব্যাংকটি। এতে জানানো হয়েছে, ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। বিনিয়োগের জন্য আরও ৮০০ কোটি টাকা ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যাংকটি সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করেছে ৪৪৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডোগুলোর মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি ক্রমে বাড়ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ফাইন্যান্সের (বিআইআইএফ) মাধ্যমে ৩৬৩ জন কর্মকর্তাকে ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। ব্যাংকের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’
২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪৫ AM · বাংলা ট্রিবিউন
ইপিজেডে বিনিয়োগে শীর্ষে চীনা কোম্পানি, শীর্ষ পাঁচে কোন কোন দেশ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩০ PM · প্রথম আলো
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প
২১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:৪৪ PM · প্রথম আলো
