রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জিনের কাঠামো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের মূলে আছে ভাইরাসের তিনটি ধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা বিষয়ে এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে মূলত জি ধরনের (জি ক্লেড) করোনাভাইরাস। অন্য দুটি ধরন হচ্ছে জিএইচ ও জিআর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলোর সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি কি না, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হবেই—এমন নজির দেখা যাচ্ছে না।করোনাভাইরাসের জিনকাঠামোতে নিয়মিত পরিবর্তন বা মিউটেশন হচ্ছে। পরিবর্তনের ধরনকে চিহ্নিত করার জন্য করোনাভাইরাসকে এল, এস, ডি, ভি, জি—এ রকম নানা ভাগে ভাগ করেছেন অণুজীববিজ্ঞানীরা।বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য জানা-বোঝার জন্য এই তথ্য জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এই তথ্য কাজে লাগবে। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে এ পর্যন্ত পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণ (ফুল জিনোম সিকোয়েন্সিং) হয়েছে ২৮৮টি। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণ হয়েছিল বেসরকারি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ল্যাবরেটরিতে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অধ্যাপক সমীর সাহা। সমীর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশে জি ধরনের বা জি ক্লেডের ভাইরাসের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। মাত্র সাতটি ক্ষেত্রে ডি ধরন পাওয়া গেছে। এই সাতটি পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম এলাকার ল্যাবরেটরিতে।সমীর সাহা এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, জি ধরনেরই উপধরন বা প্রশাখা হচ্ছে জিএইচ ও জিআর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা করোনার জিনকাঠামো বিশ্লেষণের তথ্য নিয়মিতভাবে জমা দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেমে (জিআইএসআরএস)। ৪ আগস্ট পর্যন্ত এই দফতরে ৬৯ হাজার ৬৫৫টি পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণের তথ্য জমা পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোন দেশে করোনাভাইরাসের কোন ধরনটি বেশি সক্রিয়, তারও তালিকা প্রকাশ করছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে জি, জিএইচ ও জিআর ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে কোন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন ইতালির বোলোগ্না বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক। তারা বলছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের আদি ভাইরাসটি ছিল এল ধরনের। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে জি ধরনের করোনা ভাইরাস। এরপর এই ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নানা ধরন বা ক্লেড বা স্ট্রেইন দেখা গেছে। জি, জিএইচ ও জিআর হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াতে। জি, জিএইচ ও জিআর ধরনের ভাইরাসই এখন মূলত বিশ্বের নানা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, জি ধরনের ভাইরাসটি সম্ভবত ইউরোপ থেকেই এসেছিল। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডি ধরনের ভাইরাসের উৎস ছিল সম্ভবত চীন। ডেনিয়েল মার্সেটালি ও ফেডেরিকো জর্জিনামের গবেষকদের ওই বিশ্লেষণ বিজ্ঞান সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজিতে ছাপা হয়েছে। ৪৮ হাজার ৬৩৫টি জিনকাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত, কঙ্গো ও কাজাখস্তানে ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। সারা বিশ্বে প্রতিটি নমুনায় গড়ে সাতটি মিউটেশন দেখা গেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে মিউটেশন হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩।

সম্পর্কিত সংবাদ

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ফিরলেন সাকিব

ক্রিকেট

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ফিরলেন সাকিব

স্পোর্টস ডেস্কঃ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের পর আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়েও ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির সর্বশেষ হ...

শাহজাদপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ৭ জুয়ারী আটক

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ৭ জুয়ারী আটক

শাহজাদপুর থানাধীন বাশুরিয়া এলাকার একটি জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সাত জুয়ারীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আকটকৃতরা হলো- ১।...

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শাহজাদপুরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শাহজাদপুরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী র‌্যালি ও আলোচনা সভা

শাহজাদপুর উপজেলা সংবাদদাতা : শাহজাদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে...

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

আইন-আদালত

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড...

অপরূপ সাজে সেজেছে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি

জাতীয়

অপরূপ সাজে সেজেছে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আগামী মঙ্গলবার রবি কবির ১৫৭তম জন্ম তীথি। এ উপলক্ষে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপ...