শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

নিহাল খান, শাহজাদপুর: বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের দুর্দিন চলছে। দেশি কাপড় কেনা বেচা না থাকায়, বাংলাদেশি বাজারে ভারতীয় কাপড় ক্রমশই প্রবেশ করায় বিদেশী কাপড়ের দখলে হুমকীর মুখে দেশের তাঁত শিল্প। সেই সাথে রয়েছে পুজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। বর্তমান যুগের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে জেলার অনেক তাতী বন্ধ করে দিয়েছে তাঁত কারখানা। কেবল সিরাজগঞ্জেই বন্ধ হওয়ার পথে প্রায় দেড় লাখ তাঁত। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য কম হওয়ায় কাপড় তৈরি করে পোষাতে পারছে না অধিকাংশ তাঁতী। ফলে দরিদ্র তাঁতীদের দূর্ভোগের শেষ নেই। ঝণগ্রস্থ হয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে নিজের শেষ সম্বল তাঁত। অনেকে আবার ঋণের বোঝা বইতে না পেরে এরই মধ্যে অনেকে করেছেন আত্মহত্যা। আবার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে, বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই এ পেশা পরিবর্তন করে অবলম্বন করছে অন্য পেশা। অনেক তাঁতী আবার শ্রমিক পাচ্ছে না, কারণ বেশিরভাগ শ্রমিকরাই ঝুকে পরছে অধিক মজুরীর কারখানায়। তাই দেশের ঐতিহ্য এই তাঁত শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের পৃষ্টপোষকতার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টরা। এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। এক সময়ের জৌলুস, আজকের তাঁত শিল্পের আরেক নাম। এক সময় তাঁত শিল্পের দ্বারা এ অঞ্চলের সুনাম দেশে -বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এই অঞ্চলের অর্থাৎ সিরাজগঞ্জ এর তাঁতীদের তৈরি শাড়ি, লুঙী, গামছা, বিছানার চাদরের খ্যাতি ছিল দেশজুড়ে। কিন্তু ভারতসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের বাংলাদেশের বাজার দখল আর তাঁতের কাপড়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যাওয়ায় সারাদেশের মতোই সিরাজগঞ্জের দেড় লক্ষাধিক তাঁতের অধিকাংশই এখন বন্ধ, নেই উৎপাদন। বেকার হয়ে পড়ছেন লাখ লাখ শ্রমিক। লোকসান দিয়েও অনেকে তাঁতের চাকা রেখেছেন সচল। কারণ সচল না রাখলে অচল হয়ে যাবে মূল্যবান সব যন্ত্রপাতি। ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অনেকেই শুরু করেছিলেন মাত্র কিছুদিন আগেরও জমজমাট ব্যবসা তাঁতের কাপড়ের। তাদের কেউ কেউ এখন পথে বসেছেন, ঋণের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। পূর্ব পুরুষের ভালোবাসার তাঁত পেশা ছেড়ে, বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকে বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন পেশা। ব্যবসায়ীরা বলছেন,তাঁত শিল্পকে বাঁচানোর একমাত্র পথ সহজ শর্ত আর স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা। দেশে বর্তমানে মোট তাঁতের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। তাই সরকারের পক্ষ থেকে পুজি ও পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া গ্রামের আজগার মুন্সির ছেলে আব্দুল খালেক মুন্সি(৬০) ও একই ইউনিয়ন...

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

জাতীয়

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

“হে কবি , নিরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” সত্যিই ফুঠে উঠেছে আজ কবি সুফিয়া কামালের...

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

জাতীয়

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট)...

এনায়েতপুরে জামায়াত নেতা মাদ্রাসা সুপার গ্রেফতার

অপরাধ

এনায়েতপুরে জামায়াত নেতা মাদ্রাসা সুপার গ্রেফতার

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃসিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে সোনাতলা ফয়েজিয়া দাখিল মাদ্রসা সুপার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাককে (৫৬)...

জুয়েলকে আহবায়ক করে শাহজাদপুরে উপজেলা ছাত্রদলের ২১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি

রাজনীতি

জুয়েলকে আহবায়ক করে শাহজাদপুরে উপজেলা ছাত্রদলের ২১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি

দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শাহজাদপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২২আগষ্ট) সিরাজ...

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

তথ্য-প্রযুক্তি

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে দুটি নতুন প্রাইভেসি ফিচার চালু করা হয়েছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে...