শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এ বছর কোরবানি উপলক্ষে ৪২ হাজার ষাড় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বন্যার কারণে বাজারে খইল,ভূষি সহ দানাদার গো-খাদ্যের দাম বেড়ে গেলেও সে অনুপাতে গরুর দাম বাড়েনি। আবার বন্যার কারণে কোরবানির গরুর চাহিদাও কম। তাই ক্রেতার অভাবে দীর্ঘ ১ বছর ধরে অতি যত্নে পালিত কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে শাহজাদপুরের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। অপর দিকে অধিকাংশ কোরবানির গরু পালনকারী কৃষকের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় তাদের সাধের কোনবানির গরু পানির দরে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে কৃষকরা চরম লোকসানে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৈজুরী ইউনিয়নের পাথালিয়াপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম, বাবু, চরগুদিবাড়ি গ্রামের জুলমত আলী, আইনুল, সরদ আলী, কেয়াম সরকার ও উল্টাডাব গ্রামের আজিজুল হক জনান,প্রতি বছর তারা ২ থেকে ১৫টা করে ষাড় গরু কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত করে থাকেন। ঈদুল আজাহার ১ মাস আগে থেকে তাদের এ সব গরু কেনার জন্য বেপারিরা বাড়িতে এসে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। কিন্তু এ বছর বন্যার কারণে এখনও পর্যন্ত কোন বেপারী পত্র বাড়িতে আসেনি। উল্টো তারাই বেপারীদের কাছে ধরর্ণা দিলে বেপারীরা বাজার দরের চেয়েও অনেক কম দাম বলায় তারা এখনও তা বিক্রি করতে পারছেনা। তারা আরো জানায় বেপারীরা তাদের এ সব গরু কিনে ট্রাক ও ট্রলারে করে ঢাকা ও চিটাগাং সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের হাটে নিয়ে বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়। কিন্তু বন্যার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে তেমন চাহিদা না থাকায় বেপারীরাও আসছেনা। তাই তাদের কোরবানির গরু নিয়ে তারা চরম বিপাকে পরেছে। অনেকে হাউমাউ করে কেঁদে জানিয়েছেন, শাহজাদপুরের দেশী জাতের ষাড় গরু অতি যত্নে লালন পালন করা হয়। এ সব গরুতে কোন রকম স্টেরোয়েড জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়না। তাই বাজারে এখানকার কোরবানির গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বন্যার কারণে এ বছর এখনও কোন ক্রেতা না আসায় তারা এই বিপাকে পড়েছে। ফলে তারা এ বছর তাদের গৃহপালিত কোরবানির গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায়ও পড়েছে। তারা বলছে বন্যার কারণে এ বছর কোরবানির গরুর ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে তারা চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, বন্যার কারণে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সত্য। এ কারণে কৃষকদের কোরবানির গরুতে আশানুরূপ লাভ না হলেও তেমন একটা লোকসান হবেনা। তিনি আরো বলেন, শাহজাদপুর উপজেলায় কোরবানির গরুর চাহিদা ১৩ হাজার। বাকিটা ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করে থাকে। তাই এখনও হাতে বেশ সময় আছে। তাই কৃষকদের এ ব্যাপারে শংকিত না হওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।  

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া গ্রামের আজগার মুন্সির ছেলে আব্দুল খালেক মুন্সি(৬০) ও একই ইউনিয়ন...

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

জাতীয়

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

“হে কবি , নিরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” সত্যিই ফুঠে উঠেছে আজ কবি সুফিয়া কামালের...

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

জাতীয়

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট)...

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

তথ্য-প্রযুক্তি

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে দুটি নতুন প্রাইভেসি ফিচার চালু করা হয়েছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে...