

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমঃ বাঘের রোগ থেকে দূরে থাকার উপায় এটি মানুষ প্রতিনিয়ত রোগ-জীবানুর সাথে যুদ্ধ করে আসছে। কখনও ব্যাটেরিয়া ধংস করতে ব্যবহার করছে অ্যান্টিবায়োটিক মিসাইল। আবার কখনও ভ্যাকসিনের আকারের গ্রেনেড ছুঁড়ছে ভাইরাসকে লক্ষ্য করে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। আঙ্গুলের ফাঁকে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। তখন অ্যান্টিব্যাটেরিয়াল সোপ অথবা হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করে জীবানু বিনাশ করি। জীবানু ধংস করতে আমাদেরই যদি ঘাম ছুটে যায় তাহলে প্রাণীদের অবস্থা কী হয় ভেবে দেখুন তো?কারনিভোরাস ডেভিল নামক মাংসাশী প্রাণীটি একটি ফেসিয়াল টিউমার রোগে ভুগে। এটি এক ধরণের ক্যান্সার। বাড়ির পাশের ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ’ ডাকা ব্যাঙটিও রোগ-জীবানুর হাত থেকে রক্ষা পায় না।
এরা কাইট্রিডিমাইকোসিস নামে একটি রোগে আক্রান্ত হয়। বাট্রাকোকাইট্রিয়াম ডেনড্রোবাটিডাস নামক একটি মারাত্মক ছত্রাকের সংক্রমণে এ রোগ হয়। পৃথিবীতে এক তৃতীয়াংশ ব্যাঙ মারা যায় এ রোগে। ৯০ শতাংশ তৃণভোজী কোয়ালাস মারা যায় কামাইডিয়া নামক রোগে। কামাইডিয়া ট্রাকোমাইটিস নামক একটি ব্যাকটেরিয়া এ রোগের জন্য দায়ী। সম্প্রতি মরণঘাতি ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। শুধু মানুষ নয় শিম্পাঞ্জি-গরিলাও এ রোগে আক্রান্ত হয়। মানুষের মতো এ প্রাণী দুটির নিউমোনিয়াও হয়। তাহলে বুঝুন, রোগ প্রতিরোধ করতে না পারলে সব প্রাণীই তো মারা যেতো।
তাহলে নিশ্চয়ই প্রাণীদের রোগ প্রতিরোধ করার ভিন্ন কিছু উপায় আছে। চলুন এবার সেগুলো জেনে নেই। যখন পিঁপড়াদের কোনো সদস্য মারা যায় তখন অন্য পিঁপড়েরা দ্রুত মৃতকে কলোনি থেকে বের করে আনে। কারণ তারা জানে না মৃত পিঁপড়ার শরীরে কোন জীবানু বাসা বেঁধেছে। হতে পারে মৃত পিঁপড়ার শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক থেকে থাকে তাহলে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। এই ভয়ে মৃত পিঁপড়াকে ঘর থেকে দ্রুত বিদায় করে তারা। তবে এর সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। সামুদ্রিক মাছ স্যালমন। এর ছোট সদস্যটি কখনও রোগাক্রান্ত হলে তার সেবা করার জন্য এগিয়ে আসে এক পাল সঙ্গী। কারণ ছোট্ট স্যালমনটি অতটা শক্তিশালী নয়। সামুদ্রিক এ মাছ কোনো কারণে আঘাত পেলে কোপিপড নামক একটি জীবানু আক্রান্ত স্থানে বাসা বাঁধে। ২০০৭ সালে ইনফেকসিয়াস স্যালমন এনিমিয়া নামে একটি রোগ সমুদ্রে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যে জীবানুটি এ রোগের জন্য দায়ী কিছু ছোট মাছ আবার তাদের শিকার করে। অর্থাৎ ছোট মাছগুলোর খাবার হলো ওই জীবানুগুলো। যাদের অ্যাকুরিয়াম আছে তাদের প্রায় সবারই জানা কর্কউইং রাস্সি, ব্যালন রাস্সি, কাককু রাস্সি, গোল্ডসাইনি নামক মাছগুলো ‘ফিস কিনার’ হিসেবে কাজ করে। একইভাবে সমুদ্রেও মাছগুলো এ কাজ করে থাকে। তারা স্যালমন মাছের শরীর থেকে জীবানুগুলো খেয়ে তাদের সুস্থ করে তোলে। কাজটি অবশ্য তারা না জেনেই করে থাকে।
প্রাণীদের অদ্ভুদ আচরণ অনেক সময় আমরা বুঝে উঠতে পারি না। পারার কথাও নয়। এই যেমন বাঘের কথাই ধরি। বাঘ জিব দিয়ে শরীর চাটে। কেন এমনটা করে থাকে? রোগ-জীবানুকে দূরে রাখতেই এমনটা করে এরা। বাঘের পশমে কোনো জীবানু থাকলে এই উপায়ে তা পড়ে যাবে। সব সময় যে তা হবে এমনটা নয়। তবে প্রাথমিকভাবে এমনটি করে থাকে এরা। পিঁপড়া, স্যালমন ও বাঘের মতো অন্য প্রাণীগুলোও বিভিন্ন ভাবে নিজেদের রোগ প্রতিরোধ করে থাকে- এ কথা হয়ত আর কারো বুঝতে বাকি নেই। সূত্র : বিবিসি।
সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া গ্রামের আজগার মুন্সির ছেলে আব্দুল খালেক মুন্সি(৬০) ও একই ইউনিয়ন...

জাতীয়
বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস
“হে কবি , নিরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” সত্যিই ফুঠে উঠেছে আজ কবি সুফিয়া কামালের...

তথ্য-প্রযুক্তি
ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে দুটি নতুন প্রাইভেসি ফিচার চালু করা হয়েছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে...

বিনোদন
মনে হচ্ছে আজ নিজের অর্ধেক মৃত্যু হয়ে গেল: কুমার বিশ্বজিৎ

আন্তর্জাতিক
এবার করোনায় আক্রান্ত হলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার আক্রান্ত হওয়ার...

জাতীয়
এখনই বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে: প্রধান উপদেষ্টা
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনই বাস্তবায়ন...