মো:মামুন বিশ্বাস, কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর থেকে ঘুরে এসে: সমবয়সী আর পাচজন শিশুর মতো আবু বকর সিদ্দিকের লেখাপড়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের আর্থিক অনটনে সেটা ছিল অনেকটা বিলাসিতার। কিন্তু এই আবু বকর সিদ্দিকই এখন একটু আধটু করে বলতে ও চিনতে পারছে ‘অ, আ, ক, খ’। বাংলা বর্ণমালা চিনতে ও বলতে পারা দূরের কথা, বিদ্যালয়ের আঙিনাতেই কখনও পা রাখারও সুযোগ হয়নি আবু বকর সিদ্দিক (৯)। ছিন্নমূল বাসিন্দাদের সঙ্গে তার আবাস লালবাগ রেলাইন বস্তিতে থাকেন আবু বকর সিদ্দিক । বাবা পেশায় ভিক্ষুক, বাবার এক পা নেই, শহরে ভিক্ষা করে সংসার চালান। ৫ ভাই বোন। ইস্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পড়তে ভালো লাগেনা তার। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে নিয়মিত আলোর মিছিলের পাঠশালায় আসছে আবু বকর। আমরা আশাবাদী। এমন অনেক গল্প নিয়েই সাজানো আমাদের অপরাজিত আলোর মিছিল। আবু বকরের একটা পরিবর্তন আমাদের সবার কাম্য।এরইমধ্যে তার আচার-আচরণেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখানে-সেখানে বাউন্ডুলের মতো ঘুরে বেড়ানো আবু বকর সিদ্দিক ঠিকই মনের রঙে রাঙিয়েছে নিজের ক্যানভাস। জানতে পেরেছে বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতি। আবু বকর সিদ্দিক মতো ছিন্নমূল শিশু আশা , রুবেল সহ অনেকের স্বপ্ন পূরণের এ পথ করে দিয়েছে অপরাজিত আলোর মিছিল স্কুল। আর উদ্যোগটি নিয়েছেন অপরাজিত আলোর মিছিল নামের স্বেচ্ছাসেবামূলক একটি সংগঠনের স্বপ্নবাজ কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কিছু শিক্ষার্থী। উদ্যমী এ তরুণ্যরাই সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুদের মুখে ফুটিয়েছে এক চিলতে হাসি। আঁধার তাড়িয়ে রাঙিয়েছে আপন ভুবন।কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আশে পাশে বস্তিতে জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে অপরাজিত আলোর মিছিল। ওই বস্তির শিশুদের করুণ মুখ তাদের নাড়া দেয়। তারা দেখলেন, বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পড়াশুনার আগ্রহ। এসব শিশুদের মা-বাবারাও তাদের সন্তানকে পড়াতে চান। কিন্তু এ স্বপ্ন তাদের কাছে অনেকটাই ‘গরিবের ঘোড়া রোগ’র মতো। উদ্যমী তরুণরা কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করলেন। এ তাগিদ থেকেই শুর হলো চ্যালেঞ্জ। কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের চত্বরে বিকেলে চা’র কাপে চুমুক দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে নিজেরাই কোমলমতিদের পড়াশুনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন। এ পাঠশালায় সপ্তাহের ৬ দিন বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত চলে বর্ণমালা শেখার কসরত। কিন্তু উচ্ছ্বাসে কমতি ছিল না শিশুদেরও। এই তরুণরা শিশুদের নিয়ে নিয়ম করে গাছতলায় অথবা খোলা আকাশের নিচে। বস্তির শিশুদের আলোকিত করার প্রয়াসে। এই দুই ছাত্র জানালো, তারা এখন অ, আ, ক, খ চিনে। বলতেও পারে। পড়তেও ভালো লাগে। শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ-খবরও করেন নিয়মিত।
এ পাঠশালার উদ্যোক্তা উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ‘বস্তিরর শিশুরা সব সময়ই বঞ্চিত। শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ কোনোটিই তাদের নেই। একটা পর্যায়ে এসব শিশু বখে যায়। তাদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে শুধুমাত্র সুশিক্ষা।শিক্ষার আলোয় এসব শিশুরা আলোকিত হয়ে গড়ে উঠলে আমাদের সমাজটাই বদলে যাবে। আক্ষরিক অর্থেই আমরা এ স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন করতে চাই,’ । সময়টা ২২-১০-২০১৫ ইং তারিখ। ৪১ জন সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের প্রত্যেকের হাতে এক সেট স্কুল ড্রেস এবং একটি করে স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়ার জন্য কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে একটি ছোট খাট ইভেন্ট এর আয়োজন করা হয়েছিল।ওই বছরের ২০ নভেম্বর অপরাজিত আলোর মিছিল বিশ্ব শিশু দিবস পালন করে অপরাজিত আলোর মিছিলের সকল পথশিশুদেরকে নিয়ে মেতে উঠেছিল সীমাহীন আনন্দে। যদি সরকারী বা বেসকারী অথবা ব্যাক্তিগত কোন আর্থিক সহতায় পান তাহলে অপরাজিতা আলোর মিছিল স্কুল হয়ে উঠবে বাংলার এক নবদিগন্তের অধ্যয় ।
সম্পর্কিত সংবাদ
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে গ্রামবাসীর হাতে ভুয়া পশু ডাক্তার আটক
সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পার জামিরতা গ্রামে গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভুয়া পশু ডাক্তারকে আটক ক...
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে বিনামূল্যে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ
'হাত বাড়ানোর প্রত্যয়' এ শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গমাঞ্চল সন্তোষ...
জাতীয়
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ধানম...
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্ডলের নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ ও হতদ...
ধর্ম
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল
আগামীকাল ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে ইয়ামেন শাহাজ...
