শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
১৯৭১ সালে বাঙালির জাতীয় সংকট কালে দেশের মহান স্বাধীনত্বা ও মুক্তিযুদ্ধে স্বেচ্ছায় আত্মবলিদানকারি সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৪৭ বছরেও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংবিধানে স্বীকৃতি পায়নি। মেলেনি তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান ও আর্থ সমাজিক নিরাপত্বা। তাঁদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য করা হয়নি সূরক্ষা আইন। সে কারনে মুক্তিযোদ্ধারা এবং তাদের পরিবারগুলোর সদস্যরা অনেকটা নিগৃহীত ও করুনার পাত্র। রোগে শোকে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধারা আজ একের পর এক মৃত্যু বরণ করছেন। বাস্তবতার নিরিক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সামাজিক অনেক ক্ষেত্রেই লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। মনে হয় রাষ্ট্র যেনো তাঁদের জন্য যা করছে তা শুধুমাত্র করুনা করে। এটি তাঁদের ন্যায্য অধিকারের পাওনা বা হিস্যা নয়। এ ছারাও রাষ্ট্রের শাসকগণ ও কতিপয় নামধারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাহীন মুক্তিযোদ্ধা (যে সময়ে যে সরকার ক্ষমতায় থাকেন তাদের লেজুড়বৃত্তি করেন) মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কহীন ভুয়াব্যক্তি এমনকি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনত্বা বিরোধী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের- মুক্তিযোদ্ধাদের মুল চরিত্র নষ্ট করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কলঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে পদযাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের সামনে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী চিন্তা চেতনার কর্মকান্ড রাষ্ট্র ও সমাজে প্রচলিত হওয়ার কারনে নতুন প্রজন্ম এবং দেশের জনগণের মনে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে অনেকটাই বৈরীতা প্রকাশ পাচ্ছে। বিরূপ মনোভাব তৈরীতেও সহায়ক হচ্ছে । এছারাও রাজাকার, আলবদর, আলসামস, স্বাধীনত্বা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের চিহ্নিত করণে রাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজনীতিতে, রাজনৈতিক দলগুলো ও রাষ্ট্র প্রশাসনের মাঝে তাদেরকে আত্মীয়করণের মাধ্যমে পুরো রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সে কারনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের শত্রু/মিত্র আলাদা করা কঠিন। সময়ের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের একজন সশস্ত্র সৈনিক হিসেবে যখন নিজেকে আবিস্কার করতে যাই- তখন কেবলি যেন মনে হয়-১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যেনো জাতীয় দূর্যোগের মাঙ্গন কামলা ছিল। মাঙ্গন কামলা কি? উত্তর:- আগের দিনে বাঙলার কৃষি সংস্কৃতিতে মাঙ্গন কামলার প্রচলন ছিল। যখন কোন এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ বণ্যা হতো- তখন মাঠের ধান-পাটগুলো তলিয়ে যেতে থাকলে বণ্যপ্রবন সেই এলাকার কৃষক পরিবারগুলো দূর্যোগাপূর্ণ এলাকার বাইরে অবস্থানকৃত বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামের অাত্মীয় স্বজনকে এই বিপদের খবর জানাতো। তখন তাঁরা তাদের গ্রামের লোক পরশি ও অন্যান্যদের সাথে নিয়ে সদল বলে বিপদগ্রস্থ কৃষক পরিবার আত্মীয় অনাত্মীয়েরর বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে ধান-পাট কাটার কাজ করে পরিবারের বিপদে সহযোগিতা করতো। এ কাজে তারা কোন পারিশ্রমিক নিতোনা।( এই বিপদ উদ্ধারকারী জনগোষ্ঠি ছিল মাঙ্গন কামলা )। এ কাজে শুধুমাত্র দূর্যোগাক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পিঠা, পায়েশ ও সামর্থ অনুয়ায়ী আগত অতিথীদের আপ্যায়ন করা হতো আনন্দমুখর পরিবেশে। * কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ছিল একটু ভিন্ন। ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন জীবনের নিরাপত্তা ছিলনা পাশাপাশি খাদ্যেরও নিরাপত্তা ছিলনা। তবে দেশের ও দেশের মানুষের উদ্ধারকারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে জীবন দানের প্রতিজ্ঞায় তাঁরা অটল ছিলেন এবং করেছেনও তাই। ** এখনো সময় আছে রাষ্ট্রকে সঠিক সিন্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালকগণ কি ইতিহাসের খলনায়ক হবেন? নাকি তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগে অর্জনে সৃষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশে গণমানুষের সেই অপুরনীয় আকাংখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের সঠিক পথে হাটবেন? এমন প্রশ্ন একাত্তরের প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তরের। আবুল বাশার প্রধান সম্পাদক শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম সদস্য সচিব একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রিয় আহ্বায়ক কমিটি তাং-১৮/০৭/২০১৮ ইং।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, মেম্বার আটক

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, মেম্বার আটক

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ৩৪ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননীকে জোর পূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার গাল...

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া গ্রামের আজগার মুন্সির ছেলে আব্দুল খালেক মুন্সি(৬০) ও একই ইউনিয়ন...

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

জাতীয়

বসন্তের আগমনী বার্তা পরিবর্তনের আভাস

“হে কবি , নিরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” সত্যিই ফুঠে উঠেছে আজ কবি সুফিয়া কামালের...

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

জাতীয়

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট)...