শাহজাদপুর সংবাদ

৮৬ ছক্কা মেরে বসে থাকলেন সূর্যবংশী, পিছিয়ে গেলেন অভিষেকের সঙ্গে লড়াইয়ে

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৩০ PM

৮৬ ছক্কা মেরে বসে থাকলেন সূর্যবংশী, পিছিয়ে গেলেন অভিষেকের সঙ্গে লড়াইয়ে

বেচারা বৈভব সূর্যবংশী! আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচেও মাঠে নামতে পারলেন না। এই সুযোগে তাঁকে ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছেন অভিষেক শর্মা।

সব ধরনের টি–টুয়েন্টি মিলিয়ে চলতি বছরে ভারতীয়দের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেকের—৯৬টি। এই আফগানিস্তান সিরিজেই বাঁহাতি ওপেনার ছক্কা মেরেছেন ২২টি। অন্যদিকে আফগানিস্তান সিরিজের আগে এগিয়ে থাকা সূর্যবংশী পড়ে আছেন ৮৬ ছক্কায়।

সূর্যবংশী অবশ্য বলতে পারেন—একটি জায়গায় আমিই সবার ওপরে। ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশী ৮৬টি ছক্কা মেরেছেন মাত্র ২২ ম্যাচে। ভাবা যায়! গড়ে প্রতি ৪.৯৯ বলে একটি করে ছক্কা। অন্যদিকে অভিষেকের একটি ছক্কা মারতে গড়ে খেলতে হয়েছে ৬.৬৪ বল।

অভিষেকেরও পাল্টা বলার সুযোগ আছে। কারণ, যে রেকর্ড ভাঙার জন্য অভিষেক ও সূর্যবংশী এ বছর লড়ছেন, সে রেকর্ডও অভিষেকেরই। গত বছর ১০৮টি ছক্কা মেরে ভারতীয়দের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন অভিষেক। ২০২৪ সালেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৭টি ছক্কা। অর্থাৎ টানা তিন বছর ধরে ছক্কার তালিকায় নিজের নামটাকেই বারবার ওপরে তুলছেন অভিষেক।

লড়াইটা যদি শুধু ভারতীয়দের মধ্যে না রাখা হয়, তাহলে কেমন হবে? তখনো আসলে বলতে হবে, ভারতের ক্রিকেটাররাই ছক্কার নতুন ‘মাস্টার’।

২০২৫ সালের কথাই ধরুন। অভিষেক ১০৮টি ছক্কা মেরে সর্বোচ্চ ছক্কা মারা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে দুইয়ে ছিলেন। তাঁর ওপরে ছিলেন শুধু নিকোলাস পুরান। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছক্কা মেরেছিলেন ১২১টি। মানে, অভিষেকের চেয়ে পুরান ১৩টি ছক্কা বেশি মেরেছেন। কিন্তু এই ১৩টি ছক্কার জন্য পুরানকে অভিষেকের চেয়ে ২২টি ম্যাচ বেশি খেলতে হয়েছে।

চলতি বছরেও সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় অভিষেক আছেন তিনে। তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন পুরান ও ফিন অ্যালেন। পুরান মেরেছেন তিনটি বেশি (৯৯), অ্যালেন পাঁচটি (১০১)। এ দুজনও অভিষেকের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। অভিষেক যেখানে ৪১টি ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে পুরান খেলেছেন ৪৯টি, অ্যালেন ৫২টি।

অভিষেক যদি ৮–১০টি ম্যাচ বেশি খেলতেন, ছক্কার তালিকায় কোথায় থাকতেন? ধারণা করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তাহলে সূর্যবংশীর বেলায় কী বলবেন? তিনি তো অভিষেকের চেয়েও ১৯টি ম্যাচ কম খেলেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ কম খেলার কিছু কারণও আছে। অভিষেকরা দেশের বাইরে কোনো লিগে খেলতে পারেন না। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ভারতও দলে অনেক পরিবর্তন আনে। সূর্যবংশী তো আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পেলেন না।

অন্যদিকে পুরানদের আসল খেলাই দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। ফলে ম্যাচ খেলার সুযোগও তাঁদের বেশি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ