শাহজাদপুর সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মাথা খুলেছে মেসির

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০০ AM

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মাথা খুলেছে মেসির

শিরোনাম পড়ে অদ্ভুত লাগতে পারে। লিওনেল মেসির আবার মাথা খোলার কী আছে?

আসলে মেসির মাথা বরাবরই খোলা ছিল, শুধু গোল করার ক্ষেত্রে সেটির ব্যবহার ছিল কম। প্রায় দুই যুগের পেশাদার ক্যারিয়ার তাঁর। ১৭ বছর কাটিয়েছেন বার্সেলোনার মূল দলে। দুই বছর পিএসজিতে ঘুরে সর্বশেষ চার মৌসুম ধরে আছেন ইন্টার মায়ামিতে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা দলের হয়ে তো খেলছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরেই। এই দীর্ঘ সময় আর হাজারের বেশি ম্যাচের ক্যারিয়ার বলছে, মেসির মাথাটা বেশি ব্যবহার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে এসেই।

বার্সেলোনায় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৬৭২ গোল করেছিলেন মেসি। এর মধ্যে হেডে করেছিলেন ২৪টি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ গোলের ৩.৫৭টি ছিল মাথার সাহায্যে। সে সময় মেসির গোল মানেই ছিল বাঁ পায়ের ঝলকানি। বার্সেলোনায় করা গোলের ৫৫৭টিই (৮২.৮৯%) ছিল বাঁ পায়ে।

২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর পিএসজিতে কাটিয়েছেন দুই মৌসুম। প্যারিসের ক্লাবটিতে ৩২ গোলের ২৮টিই ছিল বাঁ পায়ে, হেডে একটিও নেই। এমনকি আর্জেন্টিনা দলের হয়ে যে ১২৫টি গোল করেছেন, সেখানেও ১১১টিই বাঁ পায়ের। হেডে মাত্র দুটি।

কিন্তু ইন্টার মায়ামির জার্সিতে চিত্রটা ভিন্ন। বৃহস্পতিবার ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল মায়ামিতে তাঁর শততম গোল, হেডে যা ষষ্ঠ। অর্থাৎ মেজর লিগ সকারের ক্লাবটিতে মেসির ৬ শতাংশ গোল এসেছে মাথার সৌজন্যে।

মেসির হেডে গোলের সংখ্যা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে তাঁর খেলার ধরন। বার্সেলোনার সোনালি সময়ে দলটির আক্রমণ গড়ে উঠত ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ আর ধারাবাহিক বিল্ডআপের ওপর। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেতসদের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙাই ছিল মূল অস্ত্র।

এ ধরনের আক্রমণে বল অনেক সময় মাটিতে থাকে। মেসি নিজেও নিচে নেমে বল নিতেন, রক্ষণ ভেঙে ড্রিবল করতেন কিংবা সতীর্থকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতেন। ফলে ক্রস থেকে মাথা দিয়ে গোল করার পরিস্থিতি তাঁর খেলায় তুলনামূলকভাবে কম আসত।

ইন্টার মায়ামিতে এসে মেসির ভূমিকা কিছুটা বদলেছে। তিনি এখনো দলের প্রধান সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়, কিন্তু আগের মতো প্রতিটি আক্রমণের বিল্ডআপে একইভাবে যুক্ত থাকেন না। কখনো মাঝমাঠে নেমে বল তৈরি করছেন, কখনো ডান দিকে অবস্থান নিচ্ছেন, আবার কখনো গোলের কাছাকাছি গিয়ে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের অপেক্ষায় থাকছেন।

খোলা চোখে তো বটেই, এমএলএসের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণেও মেসির এই খেলার ধরনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এমএলএস সকারের বিশ্লেষক জোসেফ লরি লিখেছেন, মায়ামিতে মেসিকে ডান দিকের হাফ স্পেসে স্বাধীনভাবে খেলানো হয়, যাতে তিনি ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে যেতে পারেন।

এই স্বাধীনতাই মেসিকে প্রতিপক্ষের বক্সে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পৌঁছানোর সুযোগ দিতে পারে। কখনো নিচ থেকে আক্রমণ তৈরি করার বদলে তিনি শেষ মুহূর্তের দৌড়, পজিশনিং কিংবা ক্রসের অপেক্ষায় থাকেন। সেখানেই হেডে গোলের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বার্সেলোনার মেসি আর ইন্টার মায়ামির মেসি একই খেলোয়াড় হলেও বয়স ও শারীরিক চাহিদা এক নয়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে প্রতিটি আক্রমণে আগের মতো দৌড়ানো বা দীর্ঘ সময় বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বদলে নিজের অবস্থান ও শক্তি ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক।

এখানে সতীর্থদের প্রভাবও স্পষ্ট। বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে জাভি, ইনিয়েস্তা কিংবা বুসকেতসের মতো খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া ছিল। মায়ামিতে তাঁর সঙ্গে সুয়ারেজ, রদ্রিগো দি পল, জর্দি আলবার মতো পরিচিত মুখ থাকলেও দলের সামগ্রিক খেলার কাঠামো বার্সেলোনার সেই তিকিতাকা যুগের মতো নয়।

মায়ামির আক্রমণে দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, উইং ব্যবহার কিংবা দূর থেকে শট নেওয়ার মতো বৈচিত্র্যও দেখা যায়। ফলে মেসির জন্য বল পায়ে নিয়ে পুরো আক্রমণ তৈরি করার পাশাপাশি বক্সে গিয়ে শেষ মুহূর্তে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ