শাহজাদপুর সংবাদ

রেকর্ড বই ওলট–পালট করে বার্সার ৭ গোলের উৎসবে হ্যাটট্রিক রাফিনিয়ার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৪৩ AM

রেকর্ড বই ওলট–পালট করে বার্সার ৭ গোলের উৎসবে হ্যাটট্রিক রাফিনিয়ার

কোনো কিছুতে একঘেয়েমি বা পুনরাবৃত্তি ক্লান্তিকর হতে পারে। তবে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনাকে দেখে তেমন লাগে না। কাতালান ক্লাবটি জিতেই চলছে, গোলও করছে ভূরি ভূরি, কিন্তু এতটুকু বিরক্ত লাগার সুযোগ নেই। খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচ হান্সি ফ্লিক এমন এক ‘গোল মেশিন’ বানিয়েছেন, যেটা আসলে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়াল, কিন্তু সমর্থকদের জন্য সুন্দর।

ক্যাম্প ন্যুতে গতকাল রাতে রাফিনিয়া-লামিনে ইয়ামালরা সে সৌন্দর্যকেই পুরো প্রস্ফুটিত করেছিলেন। তাতে রেসিং সান্তেন্দরের জালে জমা পড়েছে ৭ গোল! হ্যাটট্রিক পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচে বার্সা জিতেছে ৭-২ গোলে।

এ মৌসুমে ফ্লিকের দলকে দেখে আসলে চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে বলতে হয়, কী শুরু করেছে বার্সা! মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচের সব কটিই জিতেছে বার্সা, যেটা এর আগে কখনো পারেনি। এই পথে ৩৩ গোল করাও ক্লাবটির জন্য নতুন রেকর্ড।

বার্সা লা লিগায় নিজেদের প্রথম ছয় ম্যাচেই করেছে ২৮ গোল—এমন গোল–উৎসবের দেখাও এর আগে কখনো পায়নি ক্লাবটি। তাতে সোনায় সোহাগা হিসেবে যোগ হতে পারে লিগে টানা ৫ ম্যাচে ন্যূনতম ৫টি করে গোল করা!

সব মিলিয়ে মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৩৩ গোল করা ফ্লিকের দলকে দেখে বলতেই হয়, এই বার্সা আসলেই ভয়াল সুন্দর!

রাফিনিয়া সেই সৌন্দর্যের মধ্যমণি। বাঁ উইং থেকে আক্রমণভাগে সরে ব্রাজিলিয়ান তারকা যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন! গতকাল রাতের হ্যাটট্রিকে পেনাল্টি থেকে গোল ছিল ২টি। জোয়াও ক্যানসেলো ৮ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে দারুণ শটে চোখধাঁধানো গোল করে এ উৎসবের শুরুটা করেন। পরে তাতে রাফিনিয়ার সঙ্গে যোগ দেন গোল পাওয়া গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিনে ইয়ামাল। দুজনই গোল পেয়েছেন ১টি করে। ২৬ মিনিটে আত্মঘাতী গোলটি রেসিংয়ের স্ট্রাইকার এইজের ভিল্লালিব্রের।

রাফিনিয়া মৌসুমটা যেভাবে শুরু করেছেন, সেটা আসলে বার্সায় লিওনেল মেসিও পারেননি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ ম্যাচে তাঁর গোল ১১টি। এর মধ্যে লিগে ৬ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সার হয়ে প্রথম ৭ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন মেসি। গোল করানোর হিসাব যোগ করলে চলতি মৌসুমে বার্সার প্রথম ৭ ম্যাচে ১৪ গোলে অবদান রাখেন রাফিনিয়া। গোল বানিয়েছেন ৩টি।

রাফিনিয়ার শুধু লা লিগার গোল হিসাব করলেও উঠে আসে মেসির প্রসঙ্গ। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে মেসিও লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে ৯ গোল করেন। তারপর লা লিগায় প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়াই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯ গোল করলেন।

রাফিনিয়ার প্রসঙ্গে উঠে আসে ইয়ামালের কথাও। লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ৭। অর্থাৎ লা লিগায় এবার বার্সার প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়া ও ইয়ামাল মিলে করলেন ১৬টি গোল। স্পেনের শীর্ষ এই লিগে গত ৮৬ বছরে এমন ভয়ংকর আক্রমণভাগের জুটি দেখা যায়নি। সর্বশেষ ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার হয়ে লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে ১৯ গোল করেছিলেন কাম্পানাল (১২) ও তোরেনতেগুই (৭) জুটি।

জয়ের পর রাফিনিয়া ডিএজেডএনকে বলেন, ‘গোল পাওয়া ও জয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আমি এতে খুশি। আমাদের ব্যক্তিগত ও দলগত দিক থেকেই উন্নতি করা ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে আরও ভালো করার, আরও বেশি গোল ও সুযোগ তৈরির যে ক্ষুধা, তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা দল হিসেবে কতটা কাছাকাছি বা ঐক্যবদ্ধ, সেটাই মাঠে ফুটে উঠেছে।’

তবে রাফিনিয়া কিন্তু মনে করেন না যে সেরা ফর্মে আছেন, ‘কোনো না কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি কখনো বলব না যে সেরা ছন্দে আছি; কারণ, আমি সব সময় সাধ্যমতো উন্নতির চেষ্টা করি এবং দল আমাকে যা দেয়, তার চেয়ে বেশি কিছু দলকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।’

বার্সা যে দলগতভাবে খেলে গোল–উৎসব করছে, সে প্রমাণও আছে পরিসংখ্যানে। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত বার্সার আটজন খেলোয়াড় গোল পেয়েছেন। আর এই গোল–উৎসব ও টানা জয়েই লা লিগায় রেকর্ড গড়েছে ফ্লিকের দল। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথম ৬ ম্যাচেই জয়ের সঙ্গে ২৮ গোলের রেকর্ড গড়ল বার্সা। এর আগে লা লিগায় প্রথম ৬ ম্যাচে বার্সার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে কেবল একটি দল—১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়া (৩২ গোল)। তবে সেভিয়া তাদের প্রথম ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটি জিতেছিল।

লিগে এ মৌসুমে বার্সার গোল পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো। ২৮ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৬টি। অর্থাৎ ২২ গোল পার্থক্য বার্সার। এর চেয়েও ভালো গোল ব্যবধানে টানা ছয়টি জয় নিয়ে মৌসুম শুরুর রেকর্ড আছে মাত্র একটি দলেরই—১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের, তাদের গোল পার্থক্য ছিল ২৪।

এমন দুর্দান্ত শুরুতে বার্সা কোচ ফ্লিক নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট? রেসিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই সেটা বোঝা গেল। ফ্লিক বলেন, ‘ভালো শুরু পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দারুণভাবে শেষ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন পাস দেওয়ার সময় মনোযোগটা ধরে রাখি। এটি কথোপকথনের মতো, একটি ভালো কথোপকথন।’

৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে বার্সা। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ