‘হেযবুত তওহীদ’ নিষিদ্ধ চায় হেফাজত, ১৩ দফা এখন ৯
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১:৫৭ PM

ধর্মীয় বিষয়ে সরকারের কাছে দাবিদাওয়ার সংখ্যা কমিয়ে এনেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে সারা দেশে আলোচনায় আসা সংগঠনটি এবার বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি পেশ করেছে। সংগঠনের বর্তমান ও অতীতের দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর কিছু কিছু হেফাজত নিজে থেকেই ‘আশ্বস্ত’ হয়ে বাদ দিয়েছে। আবার নতুন কিছু দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যান। নানা কর্মসূচির ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়িতে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্মীয় বিষয়ে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নতুন দাবি এসেছে, ‘হেযবুত তওহীদ’ নামের সংগঠনটি নিষিদ্ধ করতে হবে।
এর আগে হেফাজতে ইসলাম সরকারের কাছে যত দাবিদাওয়া পেশ করেছিল, এর মধ্যে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণার দাবি সব সময়ই আছে। এবার হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধ করার দাবি সামনে আনা হয়েছে।
এসব বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রথম আলোকে বলেন, হেযবুত তওহীদ ইসলামকে বিকৃত করছে, বিভিন্ন ফিতনা ছড়াচ্ছে। তাদের তৎপরতা দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ জন্য সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যেসব নতুন দাবি তুলে ধরা হয়, এর মধ্যে রয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির কার্যকর বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিও রাখা হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে দাওরায়ে হাদিসকে আরবি সাহিত্য ও ইসলামি শিক্ষায় মাস্টার্সের সমমান দেয়। এরপর ওই বছরের ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল আয়োজন করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা আল–হায়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। হেফাজতের তৎকালীন আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর (বর্তমানে প্রয়াত) সভাপতিত্বে ওই মাহফিলে শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
হেফাজত যেভাবে আলোচনায় এসেছিল
২০১১ সালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ ঘোষণা করলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয় হেফাজতে ইসলাম। নীতিমালায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও আয়ের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হয়, যা ইসলামি শরিয়াহ আইন ও পবিত্র কোরআনের উত্তরাধিকার বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন আলেমেরা। হেফাজতে ইসলামকে এর সংগঠকেরা বরাবরই অরাজনৈতিক সংগঠন বলে আখ্যা দেন। ২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি রাজপথে কর্মসূচি নিয়ে নামে। তখন তারা ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করে।
১৩ দফার প্রথম দাবি ছিল সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনঃস্থাপন এবং পবিত্র কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা। দ্বিতীয়টি ছিল আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
১৩ দফা নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত কর্মসূচি ছিল ২০১৩ সালের ৫ মে। ওই দিন হেফাজতে ইসলাম প্রথমে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছিল। সেদিন ভোর পাঁচটায় ফজরের নামাজের পরই ঢাকার প্রবেশপথগুলো দখলে নিয়েছিলেন সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক। একপর্যায়ে তাঁরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে এসে অবস্থান নেন। দিনভর বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাতে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি শাপলা চত্বরে অভিযান চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া গুলি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে রাজধানীতে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। হতাহত হন অনেকে। পরবর্তী সময়ে হেফাজতে ইসলাম শাপলা চত্বরে গণহত্যার অভিযোগ তুলে।
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর ৩ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওই সমাবেশ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে হেফাজত। এতে সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের দাবি ছিল। সেই সঙ্গে শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচারে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তাঁর চিহ্নিত দোসরদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি ছিল।
এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেওয়া ৯ দফা দাবির মধ্যে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনঃস্থাপনের দাবি রাখা হয়নি। এ বিষয়ে হেফাজত নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে, তারা সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করবে। ইতিমধ্যে সংসদে এর ওপর বিল পাস হয়েছে। সে জন্য এ দাবির আর দরকার নেই।
অবশ্য এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনে কোনো বিল সংসদে তোলা হয়নি। সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি মাত্র কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিরোধী দল অংশ নিচ্ছে না।
শাপলা চত্বর, ২০২১ ও ২০২৪ সাল যুক্ত
হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেওয়া ১২ দফা দাবির অন্যতম ছিল ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারে গতি আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ও তাঁর চিহ্নিত দোসরদের বিচার নিশ্চিত করা।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেওয়া দাবিদাওয়ার কিছুটা সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ‘রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায়’ জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে হেফাজত নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনাল একটি বেড়েছে। এর মধ্যে হেফাজতের মামলা ট্রাইব্যুনাল-২–এ আছে। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিটি উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে হয়নি।
দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতির বাস্তবায়ন
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া দাবিদাওয়ার চার নম্বরে রয়েছে দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) ডিগ্রির কথা উল্লেখ করা।
এ বিষয়ে হেফাজতের নেতাদের অভিযোগ, সরকার ২০১৭ সালে দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ার পরও কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষায় সেই স্বীকৃতির কার্যকর প্রয়োগ হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, গেজেট প্রকাশের পরও স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ দিতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ কারণেই নতুন করে এ দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
২০১৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হেফাজতে ইসলাম একাধিক দফায় দাবি জানিয়েছে। এসব দাবির মধ্যে কয়েকটি ধারাবাহিকভাবে এসেছে। এর মধ্যে শিক্ষার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ, হেফাজত নেতাদের মামলা প্রত্যাহার এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও তাঁর অনুসারীদের আসা বন্ধ করা উল্লেখযোগ্য।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৩ দফা দাবি ও শাপলা চত্বরের কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে একধরনের প্রভাব ফেলে হেফাজতে ইসলাম। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে নানা টানাপোড়েন ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পথচলা এগিয়েছে। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও অন্যান্য দাবিতে সক্রিয় থেকেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও হেফাজত ১২ দফা দাবি তোলে।
এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে তারা। দাবির সংখ্যা ১৩ থেকে ৯-এ নামলেও হেফাজতে ইসলামের মূল অবস্থান ও দীর্ঘদিনের ধর্মীয় দাবিগুলোর বড় অংশই বহাল আছে। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটির দাবির ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ধর্মীয় ও শিক্ষাসংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি এখন বিচার, রাজনৈতিক ঘটনা এবং কওমি শিক্ষার স্বীকৃতির কার্যকর বাস্তবায়নের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বাইরে কাউকে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল: চিফ হুইপ
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৪:০৪ PM · প্রথম আলো
সাকিব আল হাসান ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’, তবে দেশে ফিরলে নিরাপত্তা পাবেন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৩১ PM · প্রথম আলো
হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:০৮ AM · প্রথম আলো
’৯১-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছিল
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৯:৫০ AM · প্রথম আলো
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৫৩ AM · বাংলা ট্রিবিউন
‘আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’ নামের নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ
১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:০৫ AM · প্রথম আলো
