শাহজাদপুর সংবাদ

সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণের প্রভাবে পৃথিবীতে কি সত্যিই ভূমিকম্প হতে পারে

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০০ AM

সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণের প্রভাবে পৃথিবীতে কি সত্যিই ভূমিকম্প হতে পারে

মহাকাশে সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় টানের কারণে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। মহাসমুদ্রের পাশাপাশি কঠিন ভূত্বকেও এ জোয়ারের প্রভাব কাজ করে থাকে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ করেছেন যে জোয়ারের ক্ষুদ্র চাপ অনেক সময় ধীরগতির ভূমিকম্পের সূত্রপাত ঘটায়। সম্প্রতি জেজিআর সলিড আর্থ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা ফলাফলে এ অদ্ভুত ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানিয়েছেন ফ্রান্সের পিএসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, জোয়ারের ক্ষুদ্র চাপের মাত্রা খুবই কম এবং তা মানুষের হাতের মৃদু চাপের মতো হয়ে থাকে। তবু এ সামান্য চাপ কিছু কিছু চ্যুতি বা ফল্ট লাইনে ধীরগতির ভূমিকম্প বা স্লো আর্থকোয়েক ঘটাতে সক্ষম। টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ঘষা খাওয়া এবং পিছলে যাওয়ার প্রক্রিয়াগুলো বিজ্ঞানীরা স্প্রিং-ব্লক মডেল ও ফ্রিশন সমীকরণের সাহায্যে অনুকরণ করেছেন। এ মডেলের মাধ্যমে দেখা গেছে, কীভাবে একটি ফল্ট লাইন সামান্য ধাক্কায় তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে আসে। গতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ফল্ট লাইনের মধ্যকার ঘর্ষণ কমে যায় এবং তা দ্রুত বা ধীরগতির স্লিপ ইভেন্ট তৈরি করে।

সামগ্রিকভাবে ভূমিকম্পের ধরন নির্ভর করে ফল্ট লাইনের ঘর্ষণজনিত বৈশিষ্ট্য এবং জোয়ারের চাপের তীব্রতা ও স্থায়িত্বকালের ওপর। জোয়ারের শক্তির মাত্রা কম হলে ফল্ট লাইনগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে ও শান্তভাবে পিছলে যেতে থাকে। তবে এ চাপ একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি হলে এবং এর স্থায়িত্বকাল সঠিক সীমার মধ্যে থাকলে ফল্ট নড়ে ওঠে। বিজ্ঞানীরা একে অনুনাদ বা রেজোন্যান্স হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা ঠিক সঠিক ছন্দে সুইং বা দোলনায় ধাক্কা দেওয়ার মতো কাজ করে। তবে এই জোয়ারজনিত চাপ কখনো কখনো বেশ জটিল ও অপ্রত্যাশিত ধরনের সিসমিক কার্যকলাপ বা ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকেরা জোয়ারের চাপের কারণে উদ্ভূত ভূমিকম্পের ৩টি সম্ভাব্য সময়ভিত্তিক বিন্যাস বা প্যাটার্ন পরীক্ষা করে দেখেছেন। মডেলগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, জোয়ারের চক্রের সময় এবং ফল্ট লাইনের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এসব পরিস্থিতি ঘটতে পারে। পৃথিবীর ভূত্বকের ওপর জোয়ারের এ প্রভাব মডেলিং করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে ভূমিকম্প পূর্বাভাসের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ