সিরাজগঞ্জে মরিচ চাষে কৃষকের স্বপ্ন
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৮:৫৬ PM

বর্ষার শেষ সময়ে মরিচ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের উর্বর পলিমাটিতে মরিচের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম সময়ে ফলন, কয়েক দফায় ফসল সংগ্রহ এবং বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মরিচ।
তবে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে জমিতে পানি জমে থাকা, গোড়া পচা, এনথ্রাকনোজ, ডাইব্যাক, পাতা কুঁকড়ে যাওয়া এবং নানা ধরনের পোকার আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে পানি নিষ্কাশন, রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ ও সুষম সার ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল প্রধান। রোপা আমন ধান কাটার পর রবি মৌসুমে দেশীয় ও হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ২৫১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল তোলা হয়েছে, যাতে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ টন মরিচ।
এছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তারা আশাবাদী। সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ধিতপুর আলাল গ্রামের কৃষক দিয়াআলম ও শাহাদাত হোসেন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি নালা কেটে বের করে দেওয়ায় তারা ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন। বাজারে এখন মরিচের ভাল দামও পাচ্ছেন।
মাছুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক মালেক বলেন, পরিচর্যা ও উৎপাদনে খরচ হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের কৃষক রঞ্জু জানান, ৫ শতাংশ জমিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচে মরিচ চাষ করে ধানের চেয়ে বেশি লাভ পাওয়ায় তিনি আগামীতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
শিয়ালকোল ইউনিয়নের জৎগাজাতী গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, হাইব্রিড মরিচ অল্প সময়ে ফলন দেয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার শেষে মরিচ চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ বা জৈব পদার্থসমৃদ্ধ উঁচু জমি নির্বাচন ও দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জরুরি। এছাড়া অতিরিক্ত আর্দ্রতায় ছত্রাকজনিত রোগ ও ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সুস্থ-সবল চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও সময়মতো বালাই দমন সম্ভব হলে অতিবৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকেরা ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন বলে মনে করেন এই দুই কৃষি কর্মকর্তা।
সূত্র: Daily Times Of Bangladesh
সম্পর্কিত সংবাদ
প্রার্থনা, শিক্ষা ও মানবসেবায় সিরাজগঞ্জের খ্রিস্টান পল্লী
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:২৮ AM · Daily Times Of Bangladesh
গুগল ম্যাপে এখন ঢাকাসহ ৩৪ জেলার বায়ুর মান, দেখবেন কীভাবে
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৫৯ AM · প্রথম আলো
সিরাজগঞ্জে ইটভাটা মালিক ও অংশীজনদের নিয়ে পরিবেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০০ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
রোপা আমনের সবুজে হাসছে সিরাজগঞ্জ, বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৮:৪৪ PM · Alokito Bangladesh
সিরাজগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ আসামি গ্রেপ্তার
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৬:১৯ PM · Alokito Bangladesh
