শাহজাদপুর সংবাদ

রাজপরিবার ছাড়ার ৬ বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি ও মেগান

২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৪০ AM

রাজপরিবার ছাড়ার ৬ বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি ও মেগান

ছয় বছর পর চলতি মাসেই আবার যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন এই দম্পতি। গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও মার্কিন সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগান তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি (৭) ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে (৫) নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যেই স্কুল শুরু করবে এই দম্পতির দুই সন্তান।

হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র কিংবা বাকিংহাম প্যালেস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো সঠিক।

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের কোনো বাসভবনে থাকবেন না। ২০২০ সালের মার্চে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার সময় তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সে অনুযায়ী তাঁরা দায়িত্ব পালন না করা রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

২০১৮ সালে ঐতিহাসিক দুর্গ উইন্ডসর ক্যাসলে বিয়ে করেন হ্যারি ও মেগান। সাবেক অভিনেত্রী মেগানের সঙ্গে হ্যারির বিয়েকে রাজপরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হয়েছিল। মেগানের মা কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁদের বিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে বলেও আশা করা হয়েছিল।

তবে বিয়ের পর বেশি দিন যেতে না যেতেই রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হ্যারি ও মেগানের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এর দুই বছর পর, ২০২০ সালের মার্চে তাঁরা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোতে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালে ১৬ শয়নকক্ষের বাড়িটি কিনতে তাঁদের ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ও হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এ রাজপরিবারের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনা করেন তাঁরা।

২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগান বলেছিলেন, রাজপরিবারের এক সদস্য তাঁদের ছেলে আর্চির গায়ের রং কতটা কালো হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম অবশ্য রাজপরিবারের সদস্যদের বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও ভাই প্রিন্স উইলিয়ামকে নিয়েও হ্যারি বেশ কিছু অপ্রিয় মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তাঁদের সম্পর্ক প্রায় পুরোপুরি ভেঙে যায়।

হ্যারির ক্ষোভের আরেকটি কারণ ছিল, যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। তিনি বলেছিলেন, পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরা তাঁর পক্ষে নিরাপদ নয়।

তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই সেপ্টেম্বরে প্রায় ২০ মাস পর বাবা-ছেলের প্রথম দেখা হয়। তবে তাঁদের সেই সাক্ষাৎ ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত।

২০২৪ সালে রাজা চার্লসের ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ‘অসাধারণ উন্নতি’ হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা চিকিৎসা কমিয়ে আনছেন।

গত মাসে হ্যারি, মেগান ও তাঁদের দুই সন্তান যুক্তরাজ্য সফর করেন। এ সময় ২০২২ সালের পর প্রথমবার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা হয় চার্লসের।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্লস এ দম্পতির যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন গত রোববার। অর্থাৎ এ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আগে থেকে জানতেন না।

বাবার সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় হ্যারি ও মেগান বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকল্পে যুক্ত হন। তাঁরা স্পটিফাইয়ের সঙ্গে পডকাস্ট তৈরির জন্য এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান তৈরির জন্য কয়েক কোটি ডলারের চুক্তি করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে মেগানের উপস্থাপনায় জীবনযাপন–বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানও ছিল।

তবে সব প্রকল্প সমান সাফল্য পায়নি। হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ ব্যাপকভাবে বিক্রি হলেও তাঁদের পডকাস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেগানের নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠানটিরও তৃতীয় মৌসুম আর তৈরি হয়নি।

হলিউডভিত্তিক সাময়িকী ডেডলাইনের নির্বাহী সম্পাদক ডমিনিক প্যাটেন বলেন, হ্যারি ও মেগান যে ধরনের তারকাখ্যাতি চেয়েছিলেন, তাঁরা তা অর্জন করতে পারেননি।

তবে বড় বড় তারকার শহর হলিউডে নিজেদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ ধরে রাখতে তাঁরা সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন প্যাটেন। তাঁর ভাষায়, হলিউডে অনেক তারকার জনপ্রিয়তা দ্রুত ফুরিয়ে গেলেও হ্যারি ও মেগান এখনো তাঁদের গল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছেন।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ