শাহজাদপুর সংবাদ

যুদ্ধের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহযোগী ইরিনাকে কেন বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৪৮ AM

যুদ্ধের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহযোগী ইরিনাকে কেন বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

নতুন করে দুর্নীতির তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর একজন জ্যেষ্ঠ সহযোগীকে বরখাস্ত করেছেন। এর এক দিন আগেই ইউক্রেনের সাবেক একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশটি ‘শাসনব্যবস্থার সংকটের’ মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তির নাম ইরিনা মুডরা। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ পদে ছিলেন। অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউক্রেনের তদন্ত কর্মকর্তারা ইরিনার বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছেন—দেশটির সংবাদমাধ্যমে একের পর এক এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রি জারি করে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে ইরিনাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। এমন অপ্রত্যাশিত দাবি জানানোর পরও দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্বাভাবিকভাবে তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জেলেনস্কি তাঁর প্রকাশ্য বিবৃতিতে পদচ্যুত মন্ত্রী ফেদোরভের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে মুখ খোলেননি। যদিও ফেদোরভের উত্তরসূরি হিসেবে উয়েভহেন খমারাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে নিশ্চিত করতে ভোট দেওয়ায় ইউক্রেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মূল অভিযোগ হলো, জেলেনস্কির আমলে ইউক্রেনে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট তা নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি কেবল একটি উপসর্গ। মূল সমস্যা আরও গভীরে গেঁথে আছে। আমাদের শাসনব্যবস্থায় একটি পদ্ধতিগত সংকট আছে।’

গত জুলাইয়ে ফেদোরভকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। এ ঘটনা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির রাজপথে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়।

ফেদোরভ এখন যুক্তরাষ্ট্রে সফর করার কথা ভাবছেন। আগামী সপ্তাহে তাঁর এই সফর হতে পারে। মূলত মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবেন ফেদোরভ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও ট্রাম্প সেই মন্তব্য এমন এক সময়ে করেছিলেন, যখন জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। এরপর যুদ্ধরত ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। তবে দেশটির ভেতর থেকে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ফেদোরভই প্রথম নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তিনি কার্যত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ