কলকাতার হোটেলে আগুনের ঘটনায় ইজারাদার গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই কর্মীকে আটক
২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:১০ PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের দাবি, হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে আবু জাফরের নাম রয়েছে।
গতকাল বুধবার ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। পরে এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আবু জাফরকে কলকাতার এনটালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে খবর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেন। এ সময় নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী ও একটি শিশুও ছিল। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক। দুজন ভারতীয়। আহত হয়েছেন ছয়জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার, একজন ঢাকার এবং দুজন সাতক্ষীরার। কুষ্টিয়ার চারজন হলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)।
চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে এই পরিবারের সদস্যরা ভারতে গিয়েছিলেন। ঢাকার সাভারের যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তাঁর নাম আহমেদ বাবু (৩৭)। আর সাতক্ষীরার দুজন হলেন এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকার। তাঁরা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বাসিন্দা।
এ ছাড়া পূর্ব ভারতের ঝাড়খন্ডের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, নাম সন্দীপ পাশওয়ান। তিনি ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। আরেকজন যোগনারায়ণ আগরওয়াল (৬৮), তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, কলকাতায় যেসব হোটেল চলছে, সেগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র আছে কি না, তা যাচাই করতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ওই ভবনের ৩টি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল চালানো হচ্ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
আমিরাতের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কেন ইরানের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে
২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৩০ PM · প্রথম আলো
রাজপরিবার ছাড়ার ৬ বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি ও মেগান
২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৪০ AM · প্রথম আলো
যুদ্ধের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহযোগী ইরিনাকে কেন বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি
২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৪৮ AM · প্রথম আলো
পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনে দুই হোটেলে আগুন, আগের ঘটনায়ও ৮ মৃত্যু
১৯ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৩৪ AM · প্রথম আলো
