শাহজাদপুর সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: পেজেশকিয়ান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:২২ AM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: পেজেশকিয়ান

আগের দফা আলোচনার পর পুনরায় হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এখন আর ইরান আস্থা রাখে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান এখন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের ইরানি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।

আল–জাজিরায় গতকাল শনিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আর তাদের সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটাও আমরা জানি না।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

সেখানে ইরানের পক্ষ থেকে তাঁরা এমন একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হবে।

এ নিয়ে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের আরাগচি বলেছিলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যেসব বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতি রয়েছে, সেসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

এই পরিকল্পনার আওতায় ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ তুলে নেবে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, আনুমানিক এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় করবে এবং লেবানন, ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। প্রণালিটি এখন তেহরানের চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

পেজেশকিয়ান আল–জাজিরাকে বলেন, মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, জুনে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া আগের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতেই আলোচনা চলছে। গত মাসে ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’য় বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানের দায় অস্বীকার করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের সামনে সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।’ ইরানের জন্য পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, শক্তি প্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা সম্ভব। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য জলপথটি আবার খুলে দেওয়া হবে।

পেজেশকিয়ান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ইরান ২০০ বছর ধরে কোনো দেশে হামলা চালায়নি। ইরানের শাসনব্যবস্থা “কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়বে”—এমন ধারণা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।’

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা মোকাবিলা করেছি এবং ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকব। কোনো ইরানি কমান্ডারকে হত্যা করা কিংবা অর্থনৈতিক চাপ—কোনোটিই ইরানিদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পারেনি।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ