শাহজাদপুর সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: হুতিবিরোধী অভিযানে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:২১ AM

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: হুতিবিরোধী অভিযানে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে আঙ্কারা। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ সহায়তার কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে তুরস্ক অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান।

গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনোটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবে হুতিদের হামলার পর দেশ তিনটির মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে।

গতকাল আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, এ চুক্তি আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করছেন সামরিক কর্মকর্তারা। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, ‘ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থলভাগে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ও সৌদি আরব তাদের সহায়তা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তার প্রতিরক্ষায় পাশে দাঁড়াতে হয়। এটি আক্রমণাত্মক কোনো চুক্তি নয়। অন্য দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠাবে না।’

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ঠিক কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবে সামরিক প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের অবদান রাখতে পারে, সেটিও তারা পর্যালোচনা করবে বলে জানান ফিদান।

গত বুধবার রয়টার্সকে তুরস্কের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে আঙ্কারা।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে। কারণ, তুর্কি পার্লামেন্ট এখনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি।

ফিদান বলেন, পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি জমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ