ভালো দামের আশায় সিরাজগঞ্জে আগাম সবজি চাষে কৃষক
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৮:৫৭ PM

শীতের আগমনী বার্তা এখনও পুরোপুরি জানান দেয়নি প্রকৃতি। এরই মধ্যে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। ভালো দাম ও বাড়তি লাভের আশায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আগাম সবজি চাষে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে চলছে চারা রোপণ, পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ। কোথাও কোথাও আগাম সবজি বাজারে উঠতেও শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজি রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগেই এ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও শসা ও লাউয়ের মাচা, কোথাও ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, কাঁচা মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ। অনেক জমিতে আগাম সবজি ইতোমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
কৃষকেরা বলছেন, আগাম সবজি চাষে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি দ্রুত ফলন হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই জমি থেকে নগদ অর্থ ঘরে তোলা সম্ভব হয়। এ কারণে প্রতিবছরই আগাম সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে শসা, লাউ, করলা ও ডাঁটাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর জমি থেকে সবজি তোলা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর অনুকূলে থাকাটাই কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লাপাড়া উপজেলার নাগরৌহা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম নিজেই বীজতলায় উন্নত জাতের চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করছেন। তাঁর আশা, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফুলকপি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।
একই এলাকার কৃষক মেহের আলী বগুড়া থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করছেন। চলতি বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। আগাম জাতের সবজিতে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় তিনি পরিচর্যায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৪৫ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। উল্লাপাড়ায় আগাম রোপণ করা সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও কৃষকেরা সবজি বিক্রি করে ভালো লাভ করতে পারবেন। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে জেলার সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
তবে আগাম সবজি চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, রোগবালাই, পোকার আক্রমণ কিংবা হঠাৎ বাজারদর কমে গেলে কৃষকদের লোকসানে পড়তে হতে পারে। তাই মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই দমন এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদনের সময় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও কার্যকর নজরদারি থাকবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবুজ সবজির বিস্তৃত মাঠ এখন সিরাজগঞ্জের কৃষির নতুন সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো কৃষি সহায়তা এবং ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা গেলে আগাম সবজি চাষ শুধু কৃষকের পারিবারিক আয়ই নয়, সিরাজগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শীতের আগমনী বার্তা এখনও পুরোপুরি জানান দেয়নি প্রকৃতি। এরই মধ্যে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। ভালো দাম ও বাড়তি লাভের আশায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আগাম সবজি চাষে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে চলছে চারা রোপণ, পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ। কোথাও কোথাও আগাম সবজি বাজারে উঠতেও শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজি রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগেই এ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও শসা ও লাউয়ের মাচা, কোথাও ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, কাঁচা মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ। অনেক জমিতে আগাম সবজি ইতোমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
কৃষকেরা বলছেন, আগাম সবজি চাষে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি দ্রুত ফলন হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই জমি থেকে নগদ অর্থ ঘরে তোলা সম্ভব হয়। এ কারণে প্রতিবছরই আগাম সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে শসা, লাউ, করলা ও ডাঁটাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর জমি থেকে সবজি তোলা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর অনুকূলে থাকাটাই কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লাপাড়া উপজেলার নাগরৌহা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম নিজেই বীজতলায় উন্নত জাতের চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করছেন। তাঁর আশা, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফুলকপি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।
একই এলাকার কৃষক মেহের আলী বগুড়া থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করছেন। চলতি বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। আগাম জাতের সবজিতে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় তিনি পরিচর্যায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৪৫ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। উল্লাপাড়ায় আগাম রোপণ করা সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও কৃষকেরা সবজি বিক্রি করে ভালো লাভ করতে পারবেন। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে জেলার সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
তবে আগাম সবজি চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, রোগবালাই, পোকার আক্রমণ কিংবা হঠাৎ বাজারদর কমে গেলে কৃষকদের লোকসানে পড়তে হতে পারে। তাই মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই দমন এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদনের সময় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও কার্যকর নজরদারি থাকবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবুজ সবজির বিস্তৃত মাঠ এখন সিরাজগঞ্জের কৃষির নতুন সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো কৃষি সহায়তা এবং ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা গেলে আগাম সবজি চাষ শুধু কৃষকের পারিবারিক আয়ই নয়, সিরাজগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: bangladesherkhabor.net
সম্পর্কিত সংবাদ
বেলকুচিতে স্বেচ্ছাসেবকদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৮:০৭ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৭:৫০ PM · দৈনিক সিরাজগঞ্জ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে নকল বালাইনাশক উৎপাদনের দায়ে কারখানা বন্ধ
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৭:০২ PM · dailykaratoa.com
শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান পরিচালনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠন
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৬:৫২ PM · Protidiner Bangladesh
সিরাজগঞ্জে ‘বুনন’র নতুন কমিটি, সভাপতি সবুজ-সম্পাদক জুবায়ের
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ৪:৩০ PM · Padmatimes24
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি ও রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ
২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ২:৪৮ PM · nagorik tv
