শাহজাদপুর সংবাদ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-রেক্স ডাইনোসরের মৃত্যু হয়েছিল যেভাবে

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০২ PM

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-রেক্স ডাইনোসরের মৃত্যু হয়েছিল যেভাবে

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স ডাইনোসরের মৃত্যুরহস্য উন্মোচনের দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিডজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকেরা। প্রায় ৬৬ কোটি বছর আগে কানাডার মাটিতে ঘুরে বেড়ানো বিশাল এই ডাইনোসর কীভাবে মারা গিয়েছিল, নতুন এক গবেষণায় তা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। গবেষকদের ধারণা, স্কটি নামের ৪২ ফুট বা প্রায় ১২ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই দানবীয় শিকারি ডাইনোসর তার জীবনের শেষ সময়ে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর লোনা পানির এক জলাভূমিতে মারা গিয়েছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-রেক্স ডাইনোসরের মৃত্যুরহস্য জানার জন্য গবেষকেরা শক্তিশালী নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে কোনো ক্ষতি না করেই গবেষকেরা স্কটি নামের টি-রেক্স ডাইনোসরের জীবাশ্মীভূত হাড়ের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করতে সক্ষম হন। গবেষকদের তথ্যমতে, স্কটি ডাইনোসরের জীবাশ্মীভূত হাড় বিশ্লেষণ করে সেখানে রক্তনালির এক জালের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিংওয়ালা ট্রাইসেরাটপস প্রজাতির ডাইনোসর শিকার করতে গিয়ে অন্য ট্রাইসেরাটপসের শিংয়ের আঘাতে পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল ডাইনোসরটির। এর ফলে শরীরের ভেতর রক্তনালির জাল তৈরি হয়েছিল। দ্রুত পচন না হওয়ার কারণে হাড়ের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো চমৎকারভাবে সংরক্ষিত থাকে।

নিউট্রন প্রযুক্তি হাইড্রোজেনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নরম টিস্যুর চিহ্ন খুঁজে বের করতে পারে। হাড়ের ভেতরে লোহা সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয় যে ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা চলেছিল ডাইনোসরটির শরীরে। তবে হাড় পুরোপুরি জোড়া লাগার আগেই ডাইনোসরটি মারা যায়। রেজিনা ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মরিসিও বারবি এ ঘটনাকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি জানান, স্কটির পাঁজরে খনিজযুক্ত রক্তনালির বিশাল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, যা এর আগে কোনো জীবাশ্মে দেখা যায়নি।

১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচোয়ান অঞ্চলের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে স্কটির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। স্কটি ছিল সবচেয়ে বয়স্ক টি-রেক্স ডাইনোসর। মৃত্যুর সময় তার বয়স প্রায় তিরিশ বছর হয়েছিল, যা এই প্রজাতির জন্য বিরল।

সূত্র: ডেইলি মেইল

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ