শাহজাদপুর সংবাদ

বিশ্বের ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমান’ এআই, কমান্ড ছাড়াই শেষ করবে কাজ

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৫৩ AM

বিশ্বের ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমান’ এআই, কমান্ড ছাড়াই শেষ করবে কাজ

নিজেদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ উন্মোচন করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও নিরাপদ মডেল। বিশেষ করে কম্পিউটার ব্যবহার, ওয়েব ব্রাউজিং এবং একাধিক ধাপে সম্পন্ন করতে হয়—এমন জটিল কাজে আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় বেশি সক্ষম অ্যাস্ট্রা।

ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা, বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন পেশাগত কাজেও জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। মডেলটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটার ও ব্রাউজারে সরাসরি একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা উন্মোচনের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রদর্শনী ভিডিওতে মডেলটির বিভিন্ন সক্ষমতা দেখানো হয়েছে। সেখানে ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি, উপস্থাপনা তৈরি এবং সফটওয়্যার তৈরির মতো কাজ করতে দেখা যায় মডেলটিকে।

এমনকি ভিন্ন ধরনের একাধিক কাজও একই সময়ে সামলাতে পারে অ্যাস্ট্রা। যেমন—একটি গেম তৈরির পাশাপাশি খাবার অর্ডার করার মতো কাজও করতে পারে। অর্থাৎ, শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্যবহারকারীর হয়ে কম্পিউটারে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ধাপের কাজ সম্পন্ন করাই অ্যাস্ট্রার অন্যতম লক্ষ্য।

ওপেনএআই বলছে, এসব কাজ করার সময় মডেলটির ‘ভিজ্যুয়াল জাজমেন্ট’ বা দৃশ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ ও জটিল কাজের মাঝেও শুরুতে দেওয়া নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মডেলটির সক্ষমতা তুলে ধরতে একাধিক বেঞ্চমার্কের ফল প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। এর মধ্যে এআরসি-এজিআই-৩ পরীক্ষায় অ্যাস্ট্রা ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ স্কোর করেছে। এই পরীক্ষা মূলত অপরিচিত ও নতুন ধরনের সমস্যা সমাধানে এআইয়ের সক্ষমতা পরিমাপ করে।

তবে এই ফলাফল নিয়ে কিছু সতর্কতাও রয়েছে। কারণ বিভিন্ন এআই মডেল একই ধরনের কনফিগারেশনে পরীক্ষা করা হয়নি। বিশেষ করে স্থায়ী মেমোরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্য কিছু পরীক্ষায় অবশ্য অ্যাস্ট্রার উন্নতি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। কোডিং-ভিত্তিক টার্মিনাল বেঞ্চ ৪.০ পরীক্ষায় মডেলটি ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এজেন্টভিত্তিক কাজের সক্ষমতা পরিমাপের এজেন্টস লাস্ট এক্সাম পরীক্ষায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ স্কোর করেছে। দুটি ক্ষেত্রেই আগের জিপিটি-৫.৬ সল মডেলের তুলনায় ফল ভালো।

অ্যাস্ট্রার সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতাগুলোর একটি হলো সাইবার নিরাপত্তা। ওপেনএআইয়ের দাবি, সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগানোর সক্ষমতা যাচাইয়ের এক্সপ্লয়েটবেঞ্চ পরীক্ষায় মডেলটি শতভাগ স্কোর করেছে। আগের জিপিটি-৫.৬ সলের স্কোর ছিল ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

আরেকটি পরীক্ষায়, এসআরই-বেঞ্চে, কোনও সফটওয়্যারের মূল কোড না দেখেই সেটি বিশ্লেষণ ও পুনর্গঠনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। সেখানে অ্যাস্ট্রা একবারের চেষ্টায় ৮৮ শতাংশ এবং চারবারের চেষ্টায় ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ কাজ সমাধান করেছে। একই পরীক্ষায় জিপিটি-৫.৬ সলের ফল ছিল যথাক্রমে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে সাইবার নিরাপত্তায় এমন শক্তিশালী সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে ওপেনএআই জানিয়েছে, উন্নত সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু কাজে অ্যাস্ট্রা নির্দেশনা অনুসরণ করবে না। পাশাপাশি ‘জেলব্রেক’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, শুরুতে সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের জন্য জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা উন্মুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চ্যাটজিপিটি প্লাস, প্রো, বিজনেস ও এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু করা হবে। এ ছাড়া ওপেনএআইয়ের এপিআই এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের মাধ্যমেও মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

ডেভেলপারদের জন্য এপিআই ব্যবহারে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের দাম ১০ ডলার এবং প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের দাম ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের মতে, ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু টোকেনের দাম দিয়ে এআই মডেলের মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বরং একটি কাজ সম্পন্ন করতে মোট কত খরচ হচ্ছে এবং কত দ্রুত তা করা যাচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ