বাংলা কিউআরে মাশুল কত, ব্যক্তিগত কোডে কী সুবিধা
১২ আগস্ট, ২০২৬ এ ৭:১৭ PM

চালু হবে আগামী ১ নভেম্বর। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজস্ব অ্যাপে কিউআর তৈরি, স্ক্যান ও ছবি আপলোডের সুবিধা যুক্ত করার নির্দেশ।
সবার নামে একটি নিজস্ব ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকবে। ব্যাংক হিসাব ও মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাবের বিপরীতে এই কোড তৈরি হবে। তা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি সরাসরি আরেক ব্যক্তির ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হবে। এতে ভুল হিসাবে টাকা যাওয়া ও জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে। ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা আরও সহজ ও সর্বজনীন করতে এমন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এত দিন ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে দোকানে কেনাকাটা বা সেবার বিল পরিশোধের (মার্চেন্ট পেমেন্ট) সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে তৈরি ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন করা যাবে। এতে ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব নম্বর ও নাম আলাদাভাবে লেখার প্রয়োজন হবে না। কিউআর স্ক্যান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবের বিবরণ চলে আসবে। এরপর পিন নম্বর দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তারা এ নিয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। এতে গ্রাহকের সুবিধার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ মোবাইল অ্যাপে কিউআর প্রস্তুত, স্ক্যান ও গ্যালারি থেকে ছবি আপলোডের প্রয়োজনীয় ফিচার বা সুবিধা যুক্ত করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গ্রাহকেরা তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপে একটি ‘পার্সোনাল বাংলা কিউআর’ পাবেন। টাকা পাঠানোর সময় প্রেরককে দীর্ঘ ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর কিংবা ১১ সংখ্যার মোবাইল নম্বর লিখতে হবে না। প্রাপক মোবাইলের স্ক্রিনে কিউআর দেখাবেন। প্রেরক নিজের অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করে অর্থ পাঠাতে পারবেন। দূরে থাকা প্রাপক কিউআরের ছবি তুলে বা স্ক্রিনশট পাঠালেও হবে। প্রেরক অ্যাপের গ্যালারি থেকে সেই ছবি আপলোড করে সরাসরি লেনদেন করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কিউআর স্ক্যান বা ছবি আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে প্রাপকের নাম ও সংক্ষিপ্ত অ্যাকাউন্ট নম্বর দেখা যাবে। ফলে ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পন্ন হবে।
কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রতারণা বা ভুয়া কিউআর দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এতে ‘পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে। সেন্ট্রাল ট্রাস্ট স্টোরে পাবলিক কি সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি লেনদেনের সময় পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে তা রিয়েল টাইমে যাচাই করা হবে। ফলে কিউআর কোড পরিবর্তন বা তথ্য জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।
নতুন সেবা চালু হলে দেশের ১৪ কোটি ব্যাংক হিসাব ও ২৪ কোটি এমএফএস হিসাব এ কাঠামোর আওতায় আসবে। বর্তমানে এনপিএসবি ইন্টারঅপারেবল লেনদেনে যে মাশুল বা চার্জ রয়েছে, এ ব্যবস্থাতেও একই মাশুল প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠালে প্রতিবার ১০ টাকা ফি দিতে হয়। ব্যাংক থেকে এমএফএস বা অন্য সেবায় টাকা পাঠালে ০.১৫ শতাংশ এবং এমএফএস থেকে ব্যাংক বা অন্য সেবায় টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ মাশুল দিতে হয়। পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) থেকে ব্যাংক, এমএফএস বা অন্য সেবায় টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ ০.২০ শতাংশ মাশুল লাগে।
নতুন সেবায় প্রাপক কোন ব্যাংকিং অ্যাপ বা এমএফএস ব্যবহার করছেন, তা প্রেরককে আলাদাভাবে জানতে হবে না। নির্দিষ্ট বাংলা কিউআরে স্ক্যান করলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থের গন্তব্য নির্ধারণ করবে।
প্রাপক তাঁর কিউআর কোড স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দেখাতে পাবেন। চাইলে কাগজে প্রিন্ট বা লেমিনেটেড কার্ড হিসেবেও রাখতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা শেয়ার করা যাবে। ফলে প্রান্তিক মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর সহজ হবে। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ার পাশাপাশি নগদের ওপর নির্ভরতা কমবে। কমবে খুচরা টাকা লেনদেনের ঝামেলাও।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর সরকার, রপ্তানিকারকদের তিন দিনের মধ্যে তথ্য জানাতে হবে
১৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ৫:২৮ PM · প্রথম আলো
জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অনেকে সরকারি সুবিধা পান না
১২ আগস্ট, ২০২৬ এ ৪:৩৫ PM · প্রথম আলো
