প্রাথমিকে বাদ পড়া অধিকাংশ শিক্ষকই নিয়োগ পেলেন, কেউ কেউ এখনো বঞ্চিত
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৩:৫৬ PM

ময়মনসিংহ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে প্রথম দুই দফায় ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা অনশন শুরু করলে গত বুধবার রাত ১২টার পর আরও ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এখনো দুজন নিয়োগপত্র পাননি।
ময়মনসিংহের মতো দেশের অন্যান্য জেলায় বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে এখনো কেউ কেউ নিয়োপত্র পাননি।
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগদানের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। শেষ দিন পর্যন্ত কতজন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি, সেই সঠিক তথ্য এখনো জানাতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
তবে প্রথম আলো গতকাল ২৫ জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, ১৫ জেলায় এখনো ৪৪ জন নিয়োগপত্র পাননি। এর মধ্যে খুলনায় নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২৬৩ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন, ১০ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি এবং বাকি দুজন নিয়োগপত্র পাননি।
এ ছাড়া বরিশালে ২, বরগুনায় ৪, পিরোজপুরে ২, মানিকগঞ্জে ১, সিলেটে ২, শরীয়তপুরে ৩, নীলফামারীতে ১, ঝিনাইদহে ২, কুড়িগ্রামে ১, পঞ্চগড়ে ৬, জামালপুরে ৭, নেত্রকোনায় ৩, ফরিদপুরে ২ ও কুমিল্লায় ৮ জন নিয়োগপত্র পাননি।
এর মধ্যে ঝিনাইদহে নিয়োগপত্র না পাওয়া একজনের নামে মামলা এবং আরেকজনের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে ‘জটিলতা’ রয়েছে বলে জানা গেছে। সিলেটে বাদ পড়া দুজনের নামেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে নড়াইল, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, গাজীপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া ও চাঁদপুরে সুপারিশ পাওয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সবাই নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, সব তথ্য একত্র করার পর রোববার নাগাদ কতজন যোগদান করেননি সেই তথ্য জানা যাবে। যে অল্প কিছুসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
যেভাবে জটিলতার শুরু
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এরপর যাচাই (ভেরিফিকেশন) করে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা।
প্রথমে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে প্রতিটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস; কিন্তু দেখা যায়, আগে সুপারিশ পাওয়া অনেকের নাম নিয়োগের তালিকায় নেই। সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাদ পড়া প্রার্থী দুই হাজারের বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথমে সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্যের কারণে নিয়োগপত্র পায়নি। বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে ঢাকার শাহবাগসহ বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর বাদ পড়া প্রার্থীদেরও ধীরে ধীরে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করা শুরু করে সরকার।
পদায়ন শুরু ১১ অক্টোবর
সহাকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই গতকাল নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্র পেয়েও কেউ কেউ যোগদান করেননি। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের জেলায় ১১ জন যোগদান করেননি। সাধারণত, যোগদান না করা ব্যক্তিদের এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আর সুযোগ নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান না করা ব্যক্তিদের অনেকেই অন্য চাকরিতে চলে গেছেন। সে জন্যে হয়তো যোগদান করেননি। দু-একজন অসুস্থতার কারণে যোগদান না করে থাকলে বিবেচনার সুযোগ আছে। যোগদান করা নতুন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে ১১ অক্টোবর। এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ৪ অক্টোবর পদায়ন করা হবে।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন, চাপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:৫০ PM · প্রথম আলো
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬ (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায়-৫)। সংবিধানকে বলা হয় ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল’
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:২৪ PM · প্রথম আলো
ড্যাফোডিলে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর
১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৩:৩১ PM · প্রথম আলো
মাউশির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে স্কেলের পে ফিক্সেশনে তথ্য আহ্বান
১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:৫৩ PM · প্রথম আলো
