শাহজাদপুর সংবাদ

প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ, আত্মগোপনে সিরাজগঞ্জের খাদ্য নিয়ন্ত্রক

২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩৩ AM

প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ, আত্মগোপনে সিরাজগঞ্জের খাদ্য নিয়ন্ত্রক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ১১টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিল।

অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তে প্রশ্নফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ওই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে এমসিকিউ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন প্রার্থী। তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমে এসআরবি সাতজনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাইরেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা হিসাব মহাপরিদপ্তর (সিজিডিএফ), খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১১টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগ কেবল চাকরিপ্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সরকারি নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপরও আঘাত হানে। বিশেষ করে সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রযুক্তিগত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে হারুন অর রশিদ ও সুজিত গোপের বর্তমান অবস্থান, তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

এদিকে, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য নথি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

সূত্র: প্রতিদিনের কাগজ

সম্পর্কিত সংবাদ