শাহজাদপুর সংবাদ

তারকাদের লাখ লাখ টাকা পারিশ্রমিক, রিফাত চৌধুরীদের ঠকানোর অভিযোগ , কী জানা গেল

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM

তারকাদের লাখ লাখ টাকা পারিশ্রমিক, রিফাত চৌধুরীদের ঠকানোর অভিযোগ , কী জানা গেল

ছোট পর্দার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা একদিকে অভিনয়শিল্পীদের লাখ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দিচ্ছেন। অন্যদিকে নাটকের পার্শ্বচরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী মুখ খুললেও শিল্পীদের ঠকানো নতুন কিছু নয়; বলছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।

দীর্ঘ দুই যুগের বেশি অভিনয় করছেন রিফাত চৌধুরী। তাঁকে সব সময় পার্শ্বচরিত্রে দেখা গেছে। সময়ের সঙ্গে তাঁর ক্যারিয়ারের বয়স বাড়লেও ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই নিয়ে সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে তিনি জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিচালক ও প্রযোজকেরা তাঁকে যথাযথ পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা যা হতো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যেত, কম দিয়েছেন—যা একটা সময় নিয়ম হয়ে যায়। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ জানালেও ফলাফল একই থাকত।

এর আগে এফডিসিতে প্রথম আলোকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রিফাত চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমি শুটিং সেট থেকে টাকা নিয়ে পকেটে রেখে দিই। গুনে দেখি না। টাকাগুলো বেশির ভাগ সময় দেয় সহকারী পরিচালকেরা। কখনো পরিচালক নিজেও খামে ভরে দেন। শুটিং সেট ছাড়ার পর দেখা যায়, খামে টাকা কম! ফোন দিয়ে জানতে চাইতাম, আমার তো পারিশ্রমিক এত টাকা। শুনে, ‘কখনো বলত বাজেট কম। আবার কখনো বলত, ভুলে খামটা গেছে।’ আমি নিশ্চিত ছিলাম, ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে পারিশ্রমিক কম দিত। আমি এই নিয়ে আর কথা বলতাম না। যে কারণেই আমি খুবই কম অভিনয় করি।’

এদিকে সাম্প্রতিক এ ঘটনা নিয়ে পরিচালক জাহিদ প্রীতম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন অভিনেতা কেন মেডিক্যালের বারান্দায় শুয়ে হতাশার গান গাইবেন? একজন পরিচালক কেন অল্প বয়সে অর্থের অনটনে পথ হারাবেন? একজন এডিটর কেন বাবার চিকিৎসার জন্য সবার সাহায্য চাইবে? অভিনয়শিল্পীদের পেমেন্ট ইস্যু তো এই ইন্ডাস্ট্রির ক্যানসার আগে থেকেই, কত সিনিয়র এল–গেল, কত কত গিল্ড (সংগঠন) হলো, নির্বাচন হলো, কিন্তু কাজের কাজ কী হলো?’

পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনেতাদের অভিনয়শিল্পী সংঘ, নাট্য প্রযোজকদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক কম দেওয়া কিংবা বকেয়া রাখার অভিযোগে সংগঠনগুলো নিয়মিত বিচার সালিস করছে।

পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন এমন পাঁচজন অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা জানান, পার্শ্বচরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক বেশির ভাগ সময় ঠিকমতো দেওয়া হয় না। প্রতিদিন ছয় হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান, এমন একজন অভিনেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ কেউ ছয় হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেও কখনো তিন–চার হাজার টাকা ধরিয়ে দেন। কম কেন জানতে চাইলে বলেন, “পরের প্রজেক্টে বাড়ায়া দিব। বাজেট নাই”। এটা নিয়ে যদি তর্ক করি তাহলে আমি ভালো না, খারাপ। আমাকে আর শুটিংয়ে নিবেও না। অথচ এরাই তারকাদের লাখ লাখ টাকা পারিশ্রমিক কাজ শেষ হওয়ার আগেই দিয়ে দিচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে কোনো কথাই বলতে হচ্ছে না। যত সমস্যা আমাদের মতো শিল্পীদের ক্ষেত্রে। এরা একটা চক্র। এরা আবার নিয়মিত পারিশ্রমিক দেয় না বকেয়া রাখে। এটা নিয়ে নতুন করে অভিযোগ করতে চাই না।’

এদিকে পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,‘কাউকে কাঁদিয়ে, ঠকিয়ে, ভেঙে দিয়ে যে মানুষটা আজ দিব্যি ভালো আছে—সে হয়তো ভাবছে, অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়। প্রকৃতির কোনো হিসাব নেই। কিন্তু জীবন কাউকে আগেভাগে শেষ পাতাটা দেখায় না।’ তিনিও জানালেন, বিভিন্ন সময় ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখনো অনেকের কাছে পারিশ্রমিক পান।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক অভিনেতা জানালেন, ন্যায্য পারিশ্রমিকের পাশাপাশি এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া পারিশ্রমিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্পীদের সম্মানীর সঙ্গে তো সম্মান জড়িত। প্রায়ই দেখি, ন্যায্য পারিশ্রমিক না দিয়ে বলছে অফিসে আইসেন বা পরের শুটিংয়ে নিয়েন। এভাবে বকেয়া হয়ে যায়। পরে অনেকেই আর বকেয়া দিতেই চান না। সম্মানী না দেওয়ার অর্থ হলো, অসম্মান করা। এ কারণে এখন অনেকের কাছে পাওনা টাকা চাওয়াও বাদ দিছি।’

শিল্পীদের বকেয়া পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে আবুল হায়াত প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায়ই শুনি, যাঁরা কম পারিশ্রমিক পান, তাঁরা অনেকেই ঠিকমতো পারিশ্রমিক পান না। আমি নাটক নির্মাণ ও প্রযোজনা শুরুর পরে নিয়মিত চর্চা করেছি সবার পারিশ্রমিক ঠিকমতো পরিশোধ করতে। কেউ বলতে পারবেন না যে আমার কাছে পারিশ্রমিক পান। শুটিং শেষ, সবার সম্মানীর খাম রেডি থাকত। কখনো প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা না পেলেও নিজের টাকায় পারিশ্রমিক দিয়ে দিতাম। গত সরকারের আমলের একটি টেলিভিশন বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের কাছে আমার পাওনা আছে। এখন কার কাছে চাইব। পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার চর্চাটাই বন্ধ হওয়া উচিত।’

বকেয়া ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে ছোট পর্দার শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘে প্রায়ই অভিযোগ আসে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পারিশ্রমিক নিয়ে যে অভিযোগ পাই, তার ৯৯ ভাগই অন্য সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করে ফেলি। কিন্তু এখন যে রিফাত চৌধুরীর প্রসঙ্গ উঠেছে, প্রথমত তিনি আমাদের সংগঠনের সদস্য নন। তিনি এই সংগঠনকে নিজের মনে করেন না, যদিও সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ সদস্য না হতে পারেন।’

তিনি জানান, অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। এটা বহু দিন ধরেই চলে আসছে। প্রায়ই অভিযোগ পান। সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে এ সমস্যার সমাধান করতে চান।

রাশেদ মামুন আরও বলেন, ‘তিনি (রিফাত চৌধুরী) আমাদের সদস্য নন, তারপরেও যদি আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেন, সেটা আমরা সুরাহার চেষ্টা করব। কেউ ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। এর আগেও তাঁকে সংগঠন থেকে সহায়তা করেছি। এখনো করব। তবে একটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে থাকা দরকার।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ