শাহজাদপুর সংবাদ

ডেভেলপারদের জন্য ‘রেডি-টু-কোড’ উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:২৫ AM

ডেভেলপারদের জন্য ‘রেডি-টু-কোড’ উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

ডেভেলপারদের জন্য উইন্ডোজ ১১-এর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ, ঝামেলাহীন ও কোডিং উপযোগী করতে ‘প্রজেক্ট জেনিথ’ নামে নতুন সেবা চালু করেছে মাইক্রোসফট। গত ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই প্রজেক্টকে প্রতিষ্ঠানটি বলছে ‘রেডি-টু-কোড’ ও ‘ডিসট্র্যাকশন-ফ্রি’ উইন্ডোজ অভিজ্ঞতা।

নতুন এই ব্যবস্থার ফলে কম্পিউটার চালুর পর ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনীয় টুল ও সেটিংস আলাদাভাবে কনফিগার করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে না। প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই আগে থেকে সেটআপ করা থাকবে।

প্রজেক্ট জেনিথ মূলত ৬৪ জিবি বা তার বেশি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ জিবি বা তার বেশি মেমোরি ব্যান্ডউইথ থাকা ডেভেলপার-ক্লাস ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

শুরুতে এএমডির রাইজেন এআই হেলো চিপযুক্ত ডিভাইসে এই অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। পরবর্তী কয়েক মাসে বিভিন্ন অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (ওইএম) ও চিপ নির্মাতার আরও ডিভাইসে এটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রজেক্ট জেনিথের অন্যতম লক্ষ্য হলো কম্পিউটারেই বড় এআই মডেল চালানোর সুযোগ তৈরি করা। এসব ডিভাইসে ৩০ বিলিয়ন বা তার বেশি প্যারামিটারের এআই মডেল স্থানীয়ভাবে (লোকালি) এবং আনমিটার্ডভাবে চালানো যাবে।

এর ফলে ডেভেলপাররা ক্লাউডের টোকেন-নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্লাউড ব্যবহারের খরচও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

নতুন করে উইন্ডোজ সেটআপ করার পর সাধারণত প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফিচার আলাদাভাবে ইনস্টল ও সেটআপ করতে হয়। সময়সাপেক্ষ এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই উইন্ডোজ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে ধীর ও ঝামেলাপূর্ণ করে তোলে।

প্রজেক্ট জেনিথে সেই ঝামেলা কমাতেই বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ও রানটাইম, সোর্স কন্ট্রোল এবং উৎপাদনশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় টুল আগে থেকেই ইনস্টল থাকবে।

এর মধ্যে রয়েছে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোড, গিটহাব কপাইলট, পাওয়ারটয়েজ, উইনঅ্যাপসিএলআই ও উইন্ডোজ ডেভ স্কিলসসহ আরও নানা সুবিধা। ডেভেলপার ও কোডারদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উইন্ডোজ টার্মিনাল এবং ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোড ডিফল্টভাবেই টাস্কবারে পিন করা থাকবে।

ডেভেলপমেন্টের সুবিধার জন্য উইন্ডোজের বিভিন্ন সেটিংসও বদলে দেওয়া হয়েছে। ফাইল এক্সপ্লোরারে ফাইলের এক্সটেনশন, হিডেন ফাইল ও পূর্ণ ফাইল পাথ দেখা যাবে। চালু থাকবে লং-পাথ সাপোর্টও।

অন্যদিকে সম্প্রতি ব্যবহৃত ফাইল ও ফোল্ডার, সিঙ্ক প্রোভাইডারের টিপস, স্টার্ট মেনুর টিপস এবং অ্যাকাউন্ট নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি কমান্ড প্যালেট ডিফল্টভাবেই সক্রিয় থাকবে।

লিনাক্সভিত্তিক কাজের জন্য উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর লিনাক্সের (ডব্লিউএসএল) ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএসএল কনটেইনারের মাধ্যমে উইন্ডোজেই সরাসরি লিনাক্স কনটেইনার তৈরি, চালানো ও ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া এআই এজেন্ট তৈরি ও চালানোর জন্য উইন্ডোজের নিরাপত্তা অবকাঠামোও এতে সক্রিয় থাকবে।

তবে প্রজেক্ট জেনিথ ডেভেলপারদের নির্দিষ্ট কোনো ডেভেলপমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণে বাধ্য করবে না বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের টুল, প্রোগ্রামিং ভাষা ও ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে ডেভেলপমেন্ট পরিবেশ সাজিয়ে নিতে পারবেন।

মাইক্রোসফটের ভাষ্য, ডেভেলপারদের কাজের ধরন, প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই প্রজেক্ট জেনিথের সার্বিক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ