শাহজাদপুর সংবাদ

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন অনুমোদনে কেন এত সতর্ক সরকার? জানালেন প্রতিমন্ত্রী

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৭:১৯ PM

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন অনুমোদনে কেন এত সতর্ক সরকার? জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন গণহারে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বিজ্ঞানীদের মতামত, ক্লিনিক্যাল তথ্য এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে দুই-তিনটি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রায় ৩০টি দেশে মূলত বেসরকারি পর্যায়ে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতেও বেসরকারিভাবে এর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশে গণহারে ব্যবহারের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার দায়িত্বশীল ও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে জড়িত। বিজ্ঞানীদের মতামত, ক্লিনিক্যাল ডেটা এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত বিশ্লেষণ না করে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

ডা. এম এ মুহিত আরও বলেন, ভ্যাকসিন তাৎক্ষণিকভাবে চলতি মৌসুমের ডেঙ্গুর প্রকোপ থামানোর উপায় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের সুরক্ষার বিষয়। পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জাপানের উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তি দেশে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে সরকার কাজ করছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার মাস আগে থেকেই আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ায় আগের বছরগুলোর তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার ফলে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার আগের বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। আগে আক্রান্তদের প্রতি হাজারে পাঁচ জন মারা গেলেও এখন সেই সংখ্যা কমে তিন জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। ২০২৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও রোগের তীব্রতা কম হলেও সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখছে না। প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘর, ছাদ, বারান্দার টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্যক্তিগত সচেতনতা নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ