টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে কী করতে হবে বাংলাদেশকে, অন্য কোন দলের কী সমীকরণ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৩৩ AM

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যাওয়ার বদলা কী নির্মমভাবেই না নিল অস্ট্রেলিয়া! ম্যাকাইতে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারাতে প্যাট কামিন্সের দলের আসলে লেগেছে দেড় দিনের একটু বেশি সময়। আর এই জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানটা আরও শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়া নাজমুল হোসেনের দল আপাতত আছে চার নম্বরে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে (২০২৫-২৭) ৯টি দেশ মিলে খেলবে ২৭টি সিরিজ, মোট ৭১টি টেস্ট। শেষ পর্যন্ত লর্ডসের ফাইনালে যাবে শীর্ষ দুই দল।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব সমান। জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, টাই হলে দুই দল পাবে ৬ পয়েন্ট করে এবং ড্র করলে মিলবে ৪ পয়েন্ট। হেরে গেলে শূন্য। তবে দলগুলো সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে না বলে মোট অর্জিত পয়েন্ট নয়, বরং মোট সম্ভাব্য পয়েন্টের অর্জিত শতকরা হার বা ‘পিসিটি’ দিয়ে অবস্থান নির্ধারিত হয়।
২০২৭ সালের জুনে ওভালে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে কোন দলকে কী করতে হবে, চলুন দেখা যাক একনজরে।
৮০ শতাংশ পিসিটি নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় শক্ত অবস্থানে প্যাট কামিন্সরা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগের তিনটি চক্রের অভিজ্ঞতা বলে, ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকা যায়, আর ৬৫ শতাংশের ওপরে থাকলে ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত। সর্বশেষ চক্রেই দক্ষিণ আফ্রিকা (৬৯.৪৪%) ও অস্ট্রেলিয়া (৬৭.৫৪%) পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে খেলেছিল। সেটা করতে হলে বাকি ১২ টেস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়ার দরকার আর ৬৩ পয়েন্ট। যা পাওয়া সম্ভব ৫টি জয় ও ১টি ড্রতে। যদি তারা ৮টি টেস্ট জেতে এবং ৪টিতে হারে, তবে পিসিটি দাঁড়াবে ৬৮.১৮ শতাংশে। আর বাকি সব কটি টেস্ট জিতলে তাদের অর্জিত পয়েন্ট দাঁড়াবে ২৪০, আর পিসিটি পৌঁছাবে সর্বোচ্চ ৯০.৯১ শতাংশে।
পাকিস্তানে ১-১ ড্র আর ভারতে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে কাজ অনেকটুকু এগিয়ে রেখেছে প্রোটিয়ারা। বাকি ১০ টেস্টের ৮টিই তারা খেলবে ঘরের মাঠে। ৬০ শতাংশ পিসিটিতে ধরে রাখতে তাদের আর ৬৫ পয়েন্ট চাই, যা ৫ জয় ও ২ ড্রতে সম্ভব। বাকি ম্যাচে ৬ জয় ও ৪ হার থাকলেও তাদের পিসিটি হবে ৬৪.২৮ শতাংশ। আর ৭ জয় ও ৩ হার হলে পিসিটি দাঁড়াবে ৭১.৪৩ শতাংশে, যা ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এবং ইংল্যান্ডের মাটি থেকে সিরিজ জিতে কিউইরা এখন বেশ ফুরফুরে। বাকি থাকা ১০ ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফরই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বাকি ১২০ পয়েন্টের মধ্যে তাদের দরকার অন্তত ৬৪ পয়েন্ট। ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে ঘরের মাঠে সব ম্যাচে হারাতে পারলে চার জয় মিলবে সহজেই। তবে ফাইনালের টিকিট পেতে ঘরের বাইরের সাফল্যও জরুরি। ৬ জয় ও ৩ হার হলে তাদের পিসিটি হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ, আর ৭ জয় ও ৩ হার হলে দাঁড়াবে ৭০.৮৩ শতাংশে।
ম্যাকাইয়ের হারের পরেও ৫৫.৫৬ শতাংশ পিসিটি নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে বাংলাদেশ। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় এবং তার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য তাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৬০ শতাংশ পিসিটি স্পর্শ করতে নাজমুল হোসেনদের দরকার আর ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টে জয় পেলেই বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য স্পর্শ করবে। আর ওই চার জয়ের সঙ্গে বাইরে থেকে আরও একটি জয় তুলে নিতে পারলে পিসিটি লাফিয়ে হবে ৬৯.৪৪ শতাংশ, যা ফাইনালের পথ সুগম করতে পারে। মূল শর্ত হলো, ঘরের মাঠের পূর্ণ সুযোগ নেওয়া।
গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টে জয়ের পর ভারতের পিসিটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩.৩৩ শতাংশে। কলম্বোতে এখন চলছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। তবে ফাইনালে যেতে হলে এখনো অনেক ঘাম ঝরাতে হবে ভারতকে। বাকি ৮ টেস্টে দরকার অন্তত ৬৬ পয়েন্ট। ৫টি জয় ও ২টি ড্র (৬৮ পয়েন্ট) অথবা সরাসরি ৬টি জয় (৭২ পয়েন্ট) পেলেই ৬০ শতাংশের ওপরে যাওয়া সম্ভব। ভারত যদি ৬ জয় ও ২ হার পায়, পিসিটি হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। আর ৭ জয় ও ১ হার হলে পিসিটি পৌঁছাবে ৬৮.৫২ শতাংশে। বাকি আটটি ম্যাচের সাতটিই খেলতে হবে বর্তমানে শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকা নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
পাঁচ টেস্টে মাত্র ২০ পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কার সমীকরণ বেশ কঠিন। ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে বাকি সাত টেস্টে তাদের দরকার ৬৭ পয়েন্ট—অর্থাৎ অন্তত ৫ জয় ও ২ ড্র, অথবা ৬ জয়। ৬ জয় ও ১ হারে পিসিটি দাঁড়াবে ৬৩.৮৯ শতাংশে। আর অলৌকিকভাবে সাত টেস্টের সব কটি জিতলে তা গিয়ে দাঁড়াবে ৭২.২২ শতাংশে।
১৪ ম্যাচে ৮টি হার এমনিতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এর ওপর স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের কাটা গেছে ১৪ পয়েন্ট। ফলে ৫ জয় ও ১ ড্র থেকে অর্জিত ৬৪ পয়েন্ট নেমে এসেছে ৫০-এ। বাকি সাত টেস্টের সব কটিতে জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৫৩.১৭ শতাংশ, যা ফাইনালের জন্য যথেষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ক্যারিবীয়দের বাকি আছে মাত্র ২টি টেস্ট, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। এই দুই ম্যাচে জয় পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পিসিটি হতে পারে ৩২.১৪ শতাংশ। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে তারা এরই মধ্যে ছিটকে গেছে, এটা নিশ্চিন্তেই বলা যায়।
২ জয় ও ৫ হারের পাশাপাশি স্লো ওভার রেটের কারণে ৮ পয়েন্ট জরিমানা গুনে টেবিলের তলানির দিকে পাকিস্তান। বাকি ছয়টি টেস্টেই যদি তারা জয় পায়, তবে পিসিটি গিয়ে দাঁড়াবে ৫৭.৫ শতাংশে। ৫ জয় ও ১ ড্রতে তা হবে ৫১.৬ শতাংশ, আর ৫ জয় ও ১ হারে পিসিটি আরও নেমে হবে ৪৯.৬৭ শতাংশ।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
এবার কার্সের হাতে হ্যান্ডকাফ, ইংলিশ ক্রিকেটে আরেক নাইট ক্লাব–কাণ্ড
২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:১২ AM · প্রথম আলো
