এনসিপির আলোচনা: বিএনপি ‘ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ’ কায়েম করতে চায়
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:৩৫ PM

সাইবার সুরক্ষা আইনে বিএনপি সরকার যেসব সংশোধনী আনতে যাচ্ছে, সেখানে অনেক অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি। যেসব সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হয়রানি এবং কথা বলার ক্ষেত্রে ভয় সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী: বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে এ সভার আয়োজন করে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে অনলাইন অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাক্স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর সমালোচনা করে আখতার বলেন, সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ছড়ানো ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অপর দিকে সরকারের সমালোচনা করলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হতে পারে। সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে সাধারণ নাগরিকদেরও হয়রানি করা হতে পারে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে। সংশোধনীতে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, সেগুলোকে সুযোগমতো কাজে লাগানোর জন্য। তিনি বলেন, নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি। বিএনপির সৌভাগ্য হচ্ছে জনগণের ভোটে তারা বারবার নির্বাচিত হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে তারা যে কালাকানুন তৈরি করে পরে সেটার অপপ্রয়োগের প্রধান শিকারে পরিণত হয় তারা।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। উসকানি ঠেকানো, নারী ও শিশুদের হয়রানি প্রতিরোধ, অপতথ্য বা মিথ্যা তথ্য মোকাবিলা—সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই তিন যুক্তি খণ্ডন করেন তিনি। নাবিলা বলেন, এসবের প্রতিকার বিদ্যমান আইনি কাঠামোতেই আছে। ফলে যেসব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রী বাকশালীনতার কথা বলেছেন। কিন্তু অরুচিকর কথার কারণে বন্দুক ব্যবহৃত হতে পারে না।
নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এই আইনে যেসব সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হয়রানি এবং কথা বলার ক্ষেত্রে ভয় সৃষ্টি করা। সেখানে গুজবসহ বিভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এটিকে অপব্যবহারের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি, তবে তা যেন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বচ্ছ যাচাইপ্রক্রিয়া, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ এবং বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকসহ সবার অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
‘ডেইলি ওয়াদা’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিচারিক অনুমোদন ছাড়াই কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে শুধু সাংবাদিক নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকেরাও আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন।’
প্রস্তাবিত আইনটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকার সত্যিই এমন আইন প্রণয়ন করতে চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আইনটি আমলাতান্ত্রিক, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।
কুমতলবে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে একটি ‘কালাকানুন’ করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আসলে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি বিদ্যমান আইনে হচ্ছে না বলে এখন সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা দুর্বল আওয়ামী খাসলত দেখা যাচ্ছে।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন সভা সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন দলের আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
হাসিনার আমলে গণতান্ত্রিক পরিসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল: রুহুল কবির রিজভী
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৩:৪১ PM · প্রথম আলো
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাহফুজুল হায়দার কলকাতায় মারা গেছেন
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪২ AM · প্রথম আলো
কাজের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন জয় করবে সরকার: গয়েশ্বর
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০৭ AM · বাংলা ট্রিবিউন
এমপি মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩৮ AM · বাংলা ট্রিবিউন
‘বাসায় যুদ্ধ করে’ জুবাইদা রহমান স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করেছেন: চিফ হুইপ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:১০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রিজভী
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:৫০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
