‘এখন কম কিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কিছু বলতে পারি না, সহ্যও করতে পারি না’
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০১ AM

রাজধানীর মেরাদিয়ার বাজারের সবজি বিক্রেতা রুমান। প্রতিদিন কাওরানবাজার থেকে তাজা সবজি এনে বিক্রি করেন মেরাদিয়া বাজারে। আর মেরাদিয়া বাজার বনশ্রী, আফতাবনগরসহ আশপাশের এলাকার প্রধান বাজার। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যায় এ বাজারে। টাটকা সবজি আর তাজা মাছের জন্য খ্যাতি রয়েছে এ বাজারের।
রুমান বলেন, কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণ কেউ করতে পারবে না। কারণ প্রতিদিন এ বাজার ওঠানামা করে। এমনকি সকালে টাটকা সবজির যে দাম থাকে সময় যতই গড়াই কমতেও থাকে।
তিনি বলেন, ‘বাজারে সবজি পর্যাপ্ত থাকলেও বর্তমানে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য হারে কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। সামনে শীত আসছে। কিন্তু সবজির দাম যদি মনে করা হয় একেবারে সহনীয় থাকবে তাহলে ভুল হবে। হয়তো ৫-১০টাকা ওঠানামা করতে পারে কিন্তু দাম একেবারে কমার কোনও সম্ভাবনা নাই।’
রুমানের মতো সবজি-ব্যবসায়ী আমির হোসেন। তিনিও মোটামুটি একই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল পরিবহন ভাড়া কম, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। হাটে ঘাটে ওই রকম চাঁদাও দিতে হতো না। কিন্তু এখন একটা সবজির ট্রাক মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ কিংবা ভৈরবের দিক থেকে রওনা দিলে কয়েকটা জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেশি পড়ে যায়। তাহলে সবজির দাম কমবে কীভাবে। শুধু সবজি না মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও তো কমার কথা না। কমছেও না। সুতরাং আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি এরকমভাবেই চলতে হবে। হয়তো কখনও দাম বেশি আবার কখনও একটু কম। এভাবেই চলতে হবে।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর এই মেরাদিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গতকালের চেয়ে কোনও সবজির দাম ১০-২০ টাকা বেশি। আবার কোনোটার দাম ১০ টাকা কম।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল সর্বনিম্ন ৮০-১২০, চিচিঙ্গা ৮০, ঝিঙা ২০টাকা বেড়ে ১০০, বেগুন ৮০, গোল ১৪০ লাল, সাদা ১০০, করলা ২০ টাকা বেড়ে ১২০, কাকরোল ১০০, ভেন্ডি ১০০, টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ১৮০, সিম ২০ টাকা বেড়ে ১৮০, মিষ্টি কুমড়া ৬০, বরবটি ১০০, কাচা মরিজ ২০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা কেজি ।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় কেজি প্রতি রুই মাছ বেড়ে ১ থেকে দেড় কেজি ওজনের ৩৮০ টাকা। আর বড় সাইজের রুই ৪০০-৪২০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যান্য ছোট মাছের ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। এছাড়া মুরগির দামের কোনও পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার ১৯০, সোনালি ৩৩০ এবং দেশি ৬৩০ টাকা কেজি।
বাজার করতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন কম কিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আগে যেখানে ১ কেজি কিনতাম এখন হাফ কেজি কিনি। বাঁচতে তো হবে। এখন আসলে আয় ও ব্যায়ের সঙ্গে কোনও সঙ্গতি নেই। আমরা যারা চাকুরিজীবী স্যালারি মাঝারি মানের তাদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। আমরা কোথাও কিছু বলতে পারি না, সহ্যও করতে পারি না।’
হাবিবুর রহমান নামের আরেক ক্রেতা জানালেন এখন শীতকাল। শীতের সময় প্রচুর সবজি বাজারে আসে। দামও কমে যায়। কিন্তু এখন সেই কি আর সেই সময় আছে। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম কিন্তু কমে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশটাই এই রকম। যে জিনিসের দাম একবার বাড়ে সেটি আর কমে না।’
সানাউল্লাহ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘শনিবার মাছ কিনেছেন ৪০০ টাকা কেজি দরে রুই মাছ। আজকে সেই মাছ ৪৫০ টাকা চায়। কী বলবেন, কিছু বলার নাই। এখন আসলে জীবন যেখানে-যেমন ঠিক সেই রকমভাবেই চলা। দাম বেশি হলে কম কেনা ছাড়া তো আর উপায় নেই। আমাদের তো খেয়ে বাঁচতে হবে।’
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৪০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
জমি দান বা হেবায় দানকর, আয়কর ও সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাব কীভাবে করবেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৩০ AM · প্রথম আলো
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা তুলবে কনফিডেন্স পাওয়ার
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩৭ AM · প্রথম আলো
